মুন্সিগঞ্জে জমির বিরোধে যুবলীগ নেতা খু,ন, ১১ বছর পর রায়
মুন্সিগঞ্জ, ১১ জুন ২০২৪, নিজস্ব প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সীগঞ্জ সদরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সড়কের পাশে গুলি করে ও কুপিয়ে যুবলীগ নেতা ছাদেকুল হত্যাকাণ্ডের আলোচিত ঘটনার ১১ বছর পর পলাতক দুই আসামিকে যাবজ্জীবনের রায় দিয়েছে আদালত। ঘটনার ১১ বছর পর মঙ্গলবার (১১ জুন) দুপুর ১২টার দিকে জেলা অতিরিক্ত দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক বেগম খালেদা ইয়াসমিন উর্মি এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মুন্সীগঞ্জ সদরের রতনপুর গ্রামের মান্নান চোকদারের বড় ছেলে নূর হোসেন চোকদার (৪৮) ও ছোট ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৮)। মামলার পর তারা বিদেশে পালিয়ে যান। এর মধ্যে নূর হোসেন এক সপ্তাহ আগে সৌদি আরবে মারা গেছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. হাছান ছারওয়ার্দী রায়ের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘রায়ে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’
মামলার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রতনপুর গ্রামের পঞ্চসার ইউনিয়ন ১ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি নিহত ছাদেকুল ইসলাম ও তার ভাতিজা শাকিল বাড়ি হতে বের হয়ে পাশের রাস্তায় এলে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাসহ আরও সাতজন মিলে ছাদেকুলকে পূর্বশত্রুতার জেরে মারধর করেন। এসময় দণ্ডপ্রাপ্ত নূর হোসেনের হুকুমে আনোয়ার হোসেন বন্দুক দিয়ে ছাদেকুলকে হত্যার জন্য গুলি ছোড়েন। আর নূর হোসেন রামদা দিয়ে ছাদেকুলকে কুপিয়ে জখম করেন। অন্য আসামিরা ছাদেকুলকে পিটিয়ে সারা শরীরে জখম করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে ছাদেকুলের মেয়ে শারমিন ও তার চাচি হালিমা বেগম ছাদেকুলকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ছাদেকুলের স্ত্রী আসমা বেগম বাদী হয়ে ওইদিনই মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর জেরা ও জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত মঙ্গলবার এ রায় দেন।
ছাদেকুলের ছোট ভাই হাসান শেখ বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্তরা সম্পর্কে আমাদের ফুপাতো ভাই। ১৭ শতাংশ একটি জমির মধ্যে সাড়ে ৩ শতাংশ জমি নিয়ে ছাদেকুল ভাইয়ের সাথে তাদের দ্বন্দ হয়। একপর্যায়ে পরিকল্পনা করে তারা ছাদেকুল ভাইকে হত্যা করেন।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম পল্টু বলেন, ‘ছাদেকুল হত্যা মামলায় আসামি নূর হোসেন চোকদার ও আনোয়ার হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এসময় অপর সাতজন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আদেশের সময় খালাসপ্রাপ্ত সাত আসামি আদালতে হাজির থাকলেও দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হাজির ছিলেন না।’ তিনি বলেন, ‘বিচারকের রায় মেনে নিয়েছি। তবে খালাসপ্রাপ্ত সাত আসামির বিষয়ে বাদী উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তারাও এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত।’


