৩রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
সোমবার | দুপুর ২:৫৪
মুন্সিগঞ্জে জনশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ
খবরটি শেয়ার করুন:

মৃুুন্সিগঞ্জ, ১২ জুন, ২০২২, আজাদ নাদভী, সিরাজদিখান (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে জনশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রমের নিয়োগে অনিয়ম ও কর্মীদের ট্রেইনিংয়ে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৯ আগষ্ট ২০২১ তারিখে সিরাজদিখান উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা কামরুন নেছা স্বাক্ষরিত একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সিরাজদিখান উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস।

নিয়োগে বলা হয়, তথ্য সংগ্রহকারীকে কোটা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মৌজা বা গ্রামের হতে হবে এবং বয়স হতে হবে ১ জুলাই ২০২১ এ ১৮-৩০ বছরের মধ্যে।

কিন্তু নিয়ম না মেনে মালখানগর ইউনিয়নে বাসাইল ইউনিয়নের হাতেম আলীর ছেলে ৩৬ বছর বয়সী ইমরান হোসেন, ইছাপুরা গ্রামের অরুন কুমার ভট্টাচার্যে্যর ছেলে অভিজিৎ ভট্টাচার্য ও বয়রাগাদী ইউনিয়নের মুনশুর আলী গাজীর ছেলে গাজী মাহাবুব কে নিয়োগ দেয়া হয়।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১৫ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত চলবে জনশুমারি ও গৃহগণনা কর্যক্রম। তারই ধারাবাহিকতায় ইছাপুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীদের ট্রেনিং শুরু করে সিরাজদিখান উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস ।

সেখানে মালখানগর ইউনিয়নের হয়ে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে গণনাকারী নাম্বার ৮১ ইমরান হোসেন, গণনাকারী নাম্বার ৭২ অভিজিৎ ও গণনাকারী নাম্বার ৫৯ গাজী মাহাবুব।

গাজী মাহাবুব রহমানের জন্ম সনদের নাম্বারের সূত্র ধরে মালখানগর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আমিনুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ জন্মনিবন্ধন আমাদের ইউনিয়নের না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাসাইল ইউনিয়নের ব্রজেরহাটি গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে ইমরান হোসেন। তার বয়স ৩৬ বছর। গণনাকারী ও সুপারভাইজদের সাথে যোগাযোগ করলে কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, ট্রেনিং করার সময় বিভিন্ন ভাবে অপমান করে ও অযথা হেনস্থা স্বরুপ ৫-১০ মিনিট দার করিয়ে রাখে সিরাজদিখান উপজেলার ৫ নাম্বার জোনাল অফিসার আসাদুজ্জামান খান সজিব। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারা।

এ ব্যাপারে নিয়োগপ্রাপ্ত মো: ইমরান হোসেন বলেন, আমার আবেদন আগেই করা ছিলো। একজন অনুপস্থিত ছিলো। অফিস থেকে আমাকে বললো আমি ফ্রি থাকলে কাজ করার জন্য। আমার ইচ্ছা ছিলো তাই আমি কাজ করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজদিখান উপজেলার ৫ নাম্বার জোনাল অফিসার আসাদুজ্জামান খান সজিব বলেন, আমি দুইটা ইউনিয়নের ট্রেনিং করিয়েছি। প্রথম ধাপে ইছাপুরা ছিলো এবং দ্বিতীয় ধাপে মালখানগর ইউনিয়নের ট্রেনিং করাই। মালখানগর ইউনিয়নের যারা ছিলো তারা একটু উশৃংখল ছিলো। যারা উশৃঙ্খল ছিলো তাদের দার করিয়ে রেখে সবার ট্রেইনিং যাতে সুন্দর হয় সে ব্যাবস্থা করেছি।

সিরাজদিখান উপজেলা ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ফয়েজ আহম্মেদ বলেন, তখন আমি ছিলাম না। তবে যখন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় তখন আবেদনকরী খুব কম ছিলো। তাই কিছু নিয়োগ বোর্ডে যারা ছিলেন তারা নিয়োগ বিধি কিছু শিথিল করেছিলেন বলে আমি জেনেছি।

সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফুল আলম তানভির বলেন, এ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলাম, কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে দেখছি, কি করা যায়।

error: দুঃখিত!