২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | রাত ৯:৫৭
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
মুন্সিগঞ্জে কারেন্ট জালের অভিযান করায় পুলিশের বিরুদ্ধে মানববন্ধন
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০, সদর প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল উৎপাদন ও বিপণন ঠেকাতে মুক্তারপুর নৌ-পুলিশের নিয়মিত অভিযানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে কারেন্ট জাল উৎপাদন ও বিপণনের সাথে জড়িত কয়েকজন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।

আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় মুন্সিগঞ্জ সদরের মুক্তারপুর বাজার এলাকায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর নেতৃত্ব ও লোকবল যোগান দেন মুন্সিগঞ্জের শীর্ষ কারেন্ট জাল ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া।

মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, নৌ-পুলিশের ওসি কবির হোসেন খানের সন্ত্রাসী বাহিনী আছে, যার মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সে দুর্নীতি করছে লোক দেখানো জালের অভিযান চালাচ্ছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে কারখানার মালিকদের। অথচ কারেন্ট জাল তৈরির প্রকৃত মালিকদের কারখানা চলছে। তিনি এখানে একটি পক্ষের হয়ে কাজ করছে।

মুক্তারপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন এসব অভিযোগ প্রত্যাখান করে ‘আমার বিক্রমপুর’ কে বলেন, ‘গোলাম কিবরিয়া কারেন্ট জাল ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেয়ার কথা বলে বিভিন্নজনের নাম ভাঙ্গিয়ে সুবিধা নিতেন। এখন নৌ পুলিশের তৎপরতায় তিনি সেসব সুবিধা নিতে পারছেননা তাই দিশেহারা হয়ে পুলিশের কাজে বাধাঁদানের চেষ্টা করছেন।

তিনি জানান, ‘এর আগেও তিনি নৌ পুলিশের কাজে বাধাঁ দেয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিলো। অভিযান কেউ বাধাগ্রস্থ করতে পারবে না। সে যত ক্ষমতাশালীই হোক।’

সাবেক বিএনপির ক্যাডার গোলাম কিবরিয়া কারেন্ট জালের ব্যবসার আধিপত্য ধরে রাখতে ২০১৬ সালে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তার আরেক ভাই পঞ্চসারের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাও একই কাজ করেন। তাদের দুজনের হাতেই আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মী খুন-হামলা’র স্বীকার হয়েছেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাইয়ের চাচাতো ভাই হওয়ায় ও একসময়ের ত্রাস হওয়ায় আওয়ামী লীগেরই একটি অংশের নেতারা মনে করে থাকেন, তাদের নিয়ে ‘দল ভারী’ হয়েছে। অন্যদিকে সাবেক ছাত্রনেতা ও একসময়ের মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব দেয়া নেতারা মনে করেন তারা দলের জন্য ‘বিষফোড়া’।

শুধুমাত্র অতি লাভজনক কারেন্ট জাল ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই বর্তমানে গোলাম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফা দুই ভাই বিচ্ছিন্ন হয়ে আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপের সাথে জড়িয়ে থাকলেও প্রশাসনিক কোন সুযোগ-সুবিধা নিতে পারছেন না। কয়েকদিন পরপরই তাদের অবৈধ ব্যবসায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। মামলাও হচ্ছে। এসব নিয়ে তারা নিজেরাও উদ্বিগ্ন।

error: দুঃখিত!