২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
রবিবার | সকাল ৭:০৮
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
মুন্সিগঞ্জে এক পরিবারের তিন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর জীবন সংগ্রাম
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ৩০ আগস্ট ২০২৩, মো. মানিক মিয়া (আমার বিক্রমপুর)

ছবির প্রথম যাকে দেখছেন তিনি বৃদ্ধ হাফিজুর রহমান। বয়স ৭০। ওনার কাঁধে হাত দিয়ে আছেন ভাগ্নে সামিউল ইসলাম (৪৫), তার কাঁধে হাত দিয়ে চলছেন নাতি আব্দুল কাদের (৩৫) এবং সবার পেছনে চাচাতো ভাই জাবেদ আলী (৬০)।

টানা ১৫ বছর এভাবে একে অপরের কাঁধে হাত রেখে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে জীবিকা নির্বাহ করে চলেছেন তারা।

একই পরিবারের তিনজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর সাথে বৃদ্ধ হাফিজুর রহমানও মানুষের সহযোগিতায় খেয়ে পড়ে বেঁচে আছেন।

গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জের শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা তারা। জন্ম থেকেই সামিউল, আব্দুল কাদের ও জাবেদ আলী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। থাকেন মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার আড়িয়ালে।

মঙ্গলবার সকালে পাশ্ববর্তী লৌহজং উপজেলার হলদিয়া বাজারের বিভিন্ন দোকানে সহযোগিতার জন্য মানুষের কাছে হাত পেতে সহযোগিতা চাওয়ার সময় কথা হয় এই প্রতিবেদকের সঙ্গে।

এসময় তারা জানান, সারাদিনে ৪জন হাত পেতে যা টাকা উঠে আসে সে অর্থ দিয়ে সংসার চালান তারা।

বৃদ্ধ হাফিজুর রহমান জানান,  ৭০ বছরের বেশি বয়স হয়ে গেছে আমার। কেউ কাজে নেয় না। কিন্তু পেট তো আছে। কি করবো, তাই এই বয়সে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভিক্ষা করি। তিনি আরও জানান, আমার সাথে তিনজন অন্ধ রয়েছে। ওরা তিনজন আমার পরিবারের সদস্য। তিনজনই জন্মের পর থেকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। ১৫ বছর ধরে আমরা এভাবেই জীবন চালাচ্ছি। সকালে রান্না করি তারপর খাওয়া দাওয়া করে বের হই। সারাদিন বাহিরে থেকে রাতে বাসায় যাই।

অন্ধ সামিউল ইসলাম জানান, চোখে না দেখার কারণে নিজেই চলতে পারি, না কাজ করে খাবো কি! তাই এ পথ বেছে নিয়েছি। আমরা তিনজন আমাদের মামাকে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করি। যা টাকা উঠে তা দিয়ে নিজেরা থাকি-খাই আবার গ্রামের বাড়িতে পরিবারকেও পাঠাই।

error: দুঃখিত!