৩১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
শনিবার | রাত ২:৫৮
মুন্সিগঞ্জে আ.লীগ নেতা হানিফ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ
খবরটি শেয়ার করুন:
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email

মুন্সিগঞ্জ, ১৫ জুন, ২০২১, শ্রীনগর প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল ইউনিয়নের নতুন বাজার সংলগ্ন সরকারি ‘ক’ তফসিলের প্রায় দেড় একর জমি দখল করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে একটি সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে।

এসব সরকারি জমি ভরাট করেছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হানিফ বেপারী, আবুল কালাম মাস্টার, আনছার বেপারী, আব্দুল মান্নান, হাসেম সিন্ডিকেট।

রাঢ়িখাল মৌজার ১৭১নং খতিয়ানের আরএস ৬১নং দাগের সরকারি সম্পত্তি ভরাট করে রকম পরিবর্তন করা হয়েছে। অথচ স্থানীয় ভূমি সহকারী কর্মকর্তা উত্তম কুমার এই বিষয়ে কিছুই জানেন না! কথার ধরন যেন দায় এড়ানো প্রকৃতির।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নতুন বাজার সংলগ্ন দক্ষিণ দিকে সরকারি নাল সম্পত্তি মাটি ভরাট করা হয়েছে।

এসময় স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ বেপারী, আবু কালাম মাস্টার, আনছার বেপারী গং কয়েক মাস আগে এখানে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করে।

এলাকাকাসী সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় তহশীল অফিসের সহকারি কর্মকর্তার উদাসীনতা ও যোগসাজসে সরকারি কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করে রকম পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রশাসনিক কোন রকম নজরদারী না থাকায় এরই মধ্যে সিন্ডিকেটটি ভরাটকৃত সরকারি জমি চড়া মূল্যে বিক্রি করছে!

নতুন বাজারের দোকানীরা জানায়, সরকারি এসব নাল জমি (জলাধার) ভরাটের কারণে গ্রামীণ এলাকার পানি নিস্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে বৃষ্টির পানির কারণে নতুন বাজার ও আশপাশের রাস্তাঘাটে প্রতিনিয়ত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারনে  বাজারে হাঁটু পানি জমে থাকছে। জলাবদ্ধতার দরুণ মানুষ চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারি জমির একাধিক ক্রেতা জানান, শুধু মাত্র স্ট্যাম্পের মাধ্যমে লিখে জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ বেপারী বালাশুরে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের (সাবেক জমিদার যদু নাথের বাড়ি) লীজকৃত পুকুরের রকম পরিবর্তন করার বিষয়ে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। প্রভাবশালী হানিফ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। নতুন ভাবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি শ্রীনগর এলজিইডি’র তালিকাভুক্ত ঠিকাদার।

রাঢ়িখাল ভূমি সহকারী কর্মকর্তা উত্তম কুমারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে ‘ক’ তফসিলের জমি। কোনও সরকারি খাস জমি নাই এখানে। জমির রকম পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ভূমি সহকারী কমিশনার কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

আবুল কালাম মাস্টারের কাছে জায়গার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, খরিদ সূত্রে ওখানে তাদের মালিকানা সম্পত্তি রয়েছে। তাই মাটি ভরাট করা হয়েছে। তবে তিনি বৈধ কাগজপত্র দেখানোর কথা বললেও তা দেখাতে পারেননি।

হানিফ বেপারীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে মাটি ভরাট কাজের সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। তবে ওই জায়গার কাগজপত্র থাকার কথা বলেন তিনি। সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এব্যাপারে শ্রীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেয়া দেবনাথ জানান, ‘ক’ তালিকার জমির রকম পরিবর্তন কোনও ভাবেই করা যাবেনা। আমি এখনই স্থানীয় ভূমিকে বলছি ব্যবস্থা নিতে।

error: দুঃখিত!