১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
শনিবার | দুপুর ১:২৭
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
ব্রিজ দিয়ে চলে না কোন যানবাহন, তবুও ধসে পড়ছে রেলিং
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ১৮ অক্টোবর, ২০২০, এম এম রহমান (আমার বিক্রমপুর)

মানুষ পায়ে হেটে ব্রিজে উঠা কষ্টসাধ্য গাড়ী চলা তো দূরের কথা। তবে ব্রিজটির ঢালের এই ২ ফিটের রাস্তাটি দিয়েই মাঝে মধ্যে মোটর সাইকেল নিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের সিকদারকান্দি গ্রামের বড় ব্রিজটি পার হয়ে কাঁচামাটির সড়কে আধাকিলো হাঁটলেই সিকদারকান্দি টু বকচর ব্রিজটির অবস্থান।

ব্রিজটি দিয়ে আজও কোন অটো রিক্সা বা অন্যান্য পরিবহন চলাচল করেনি।

সিকদারকান্দি গ্রাম থেকে ব্রিজটি পর্যন্ত ৬ ফিটের কাঁচামাটির সড়ক। দু’পাশে ভেঙ্গে গিয়ে ছোট হয়ে আসছে সড়কটি। এই সড়কটি পায়ে হেঁটে ব্রিজের নিকট যাচ্ছে মানুষ।

ব্রিজটির দু’পাশে খাড়া পাহাড়ের মত ঢালু সংযোগ সড়ক। ব্রিজটিতে উঠানামার স্থানে মাত্র ২ ফিটের কাঁচামাটির সড়ক। বৃষ্টির সময়ে মানুষ ব্রিজটিতে পায়ে হেঁটে উঠতেই পড়েন নানান ভোগান্তিতে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোন গাড়ী চলেনা ব্রিজ দিয়ে তবুও ব্রিজটির রেলিংগুলো ধসে যাচ্ছে। ব্রিজের কাঠামো এবং রেলিংয়ের রড বেরিয়ে আস্তরগুলো খসে খসে পড়ছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করার কারনে মাত্র ৪/৫ বছরের ব্যবধানে ব্রিজটি ধসে যাচ্ছে।

পথযাত্রীরা বলছেন, ব্রিজটি মনে হয় দোলনার মত দোলে। প্রতিদিনই খসে খসে আস্তর খালে পড়ে। ঢালাইকাজে যে নিম্নমানের সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে তার প্রমান দেখা যাচ্ছে। হাতে স্পর্শ করে চিমটি কাটলেই আস্তর উঠে হাতে চলে আসে। এলাকার দুষ্ট পোলাপান এই ব্রিজের ধসে পড়া কংক্রিটগুলো পাখি মারার ঢিল হিসেবে ব্যবহার করছে। দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার করলে বকচর এবং জাজিরা এলাকার যোগাযোগের ভোগান্তি অনেকটা কমে আসবে বলে দাবি গ্রামবাসীদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জাজিরা সিকদারকান্দির এই ব্রিজটি পায়ে হেটে পাড়ি দিয়ে বকচরের লোকজন মিনাবাজার এবং জেলা সদরে নিয়মিত যাতায়াত করে। দীর্ঘ ৩০/৪০ মিনিটের পায়ে হাঁটার পথ পাড়ি দিয়ে জেলা সদরে আসার জন্য বকচরের লোকজন মিনাবাজারে আসে। আর বকচর গ্রামের অধিকাংশ মানুষ বিকল্প পথে নদী পথে চিতলিয়া বাজারে গিয়ে সড়ক পথে জেলা সদরে যাতায়াত করেন। সেখানে তাদের হাটতে হয় বহুপথ।

বকচর গ্রাম থেকে রজতরেখা নদী পর্যন্ত ১০ মিনিটের পথ হাটার পর ট্রলারঘাট। তবে এই ব্রিজটি যান চলাচলের উপযোগী করলে বকচরের লোকজন মিনাবাজার, জাজিরা এবং চরমশুরা সড়কে সরাসরি জেলা সদরে যাতায়াত করতে পারবে।

চেয়ারম্যান গেছে চেয়ারম্যান আসছে কিন্তু বকচর গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি আজও। পায়ে হাঁটা ছাড়া কোন গতিই নেই মেঘনা তীরবর্তী গ্রামবাসীদের।

স্থানীয় বাসিন্ধা শফি মিঝি জানান, এই ব্রিজটি বহু দিন ধরে এভাবে পড়ে আছে। রেলিংগুলো ভেংগে খসে খসে পড়ছে। আজও কোন গাড়ী চলেনি ব্রিজটি দিয়ে। কাঁচামাটির সড়ক দিয়ে পায়ে হেঁটে এই ব্রিজটিতে আসে মানুষ। তবে ব্রিজটিতে পায়ে হেঁটে উঠতেও করতে হয় যুদ্ধ। সংযোগ সড়কে অনেক ঢালু এবং ২ ফিটের সড়ক। স্থানীয়রা মাটি ফেলে নিয়মিত যাতায়াত করে আসছে। যেন দেখার কেউ নেই। ব্রিজ দিয়ে যদি কোন গাড়ীই না চলে পায়েই যদি হাটতে হয় এসব ব্রিজ তৈরী করার কি দরকার ছিলো। দ্রুত এটাকে সংস্কার করে গাড়ী চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানাচ্ছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক গ্রহবধু জানান, নিম্নমানের রড, ইট বালু আর সিমেন্ট দিয়ে ব্রিজটি তৈরী করেছে। ব্রিজের রেলিং এবং নিচে অংশে আস্তর খসে পড়ে রড বেরিয়ে গেছে। বৃষ্টিতে ভিজলে ব্রিজ থেকে আস্তর খসে পড়ে। মনে হয় কাঁদামাটি দিয়ে আস্তর করা । শত শত বছরের পুরানো স্থাপনাও এভাবে ধসে পড়ে না। ঠিকাদাররা রাঁতের আধারে এটা নির্মান করে জনগনকে ফাঁকি দিয়েছে। দ্রুত ব্রিজটি মেরামত না করলে পুরো কাঠামো ভেংগে যেতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান যায় চেয়ারম্যান আসে কিন্তু এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। বহু বছর আগের সড়ক এখনও রয়েছে আধাকাচা। তাও খানাখন্দে ভরপুর । একটা ব্রিজ নির্মাণ হয়েছে মাত্র কয়েক বছর আগে। গাড়ী চলার আগেই সেটা ধসে যাচ্ছে। সড়কটি কবে নাগাদ পিচ ঢালাই হবে?। আর এই ব্রিজটি দিয়েই বা কবে থেকে গাড়ী চলবে।

চেয়ারম্যানরা নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কোন চেয়ারম্যানই এই সড়কটির উন্নয়নে এগিয়ে আসেনি বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। গ্রামকে শহরে পরিনত করতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। দ্রুত এই ব্রিজটি যানচলাচলের উপযোগী করে তুলতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

error: দুঃখিত!