২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
রবিবার | সকাল ৭:২৯
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
ফিতরা রোজাকে ত্রুটিমুক্ত করে
খবরটি শেয়ার করুন:

রমজান মাসের রোজা ইসলামের পাঁচটি মৌলিম স্তম্ভের অন্যতম। একাধারে এক মাস রোজা রাখা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক , সুস্থ মুসলমানের ওপর ফরজে আইন। রোজার পরিপূর্ণতার জন্য ইসলামী শরিয়ত অনেক বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। সমস্ত বিধি-নিষেধ পুরোপুরি মান্য করে রোজাকে পরিপূর্ণ করে তোলা বেশ কষ্টসাধ্য বৈকি! কারণ ইচ্ছেয় কি অনিচ্ছায় ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটে যাওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার।কিন্তু মুমিন বান্দা ত্রুটির কারণে রোজার সওয়াব থেকে বঞ্চিত হোক মহান আল্লাহ সেটা চান না।তাই মুমিনের রোজাকে ত্রুটি মুক্ত করতে ইসলাম ফিতরাকেওয়াজিব করেছে।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ (সা.) সাদাকাতুল ফিতর অপরিহার্য করেছেন অনর্থক এবং অশালীনতার ত্রুটি থেকে রোজাকে মুক্ত করার জন্য এবং দরিদ্র মানুষে খাবারের সংস্থান করার জন্য। যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের আগে তা আদায় করবে , সেটা হবে মকবুল দান আর যে ঈদের নামাজের পরে আদায় করবে সেটা হবে সাধারণ দানসমূহের মধ্য হতে একটি দান।(সুনানে আবু দাউদ : ১৬০৯ ,সুনানে দারেমি : ২০৬৭, মুসদাতরেকে হাকেম : ১৪৮৮ , আস্-সুনানুল কুবরা :৭৬৯২ ,ফাযাইলুল আওকাত :১৪৭ ,মারেফাতুস সুনান :৮৪৩৮ ) আমর ইবনে মুররাহ আব্দুল্লাহ ইবনে সালমাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। হজরত আলী( রা.)সাদাকাতুল ফিত্র সম্পর্কে বলেছেন , এক সা যব অথবা অর্ধ সা ভুট্টা।হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)বর্ণনা করেছে , রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক আজাদ-গোলাম,ছোট-বড় ,নারী-পুরুষের পক্ষ সাদাকাতুল ফিতর হিসেবে এক সা খেজুর অথবা যব ,অথবা অর্ধ সা গম অপরিহার্য করে দিয়েছেন।( মুসান্নেফে ইবনে আবি শাইবা :১০৩৩৪ , মুসনাদে আহমাদ :৩২৯১ )

বাংলাতে ব্যবহৃত ফিতরা বা ফেতরা শব্দটি ইসলামের একটি বিশেষ ধর্মীয় পরিভাষা হিসেবে আরবি ভাষা থেকে নেওয়া। ইফতার ও ফিতরা শব্দ দুটি একই মূলধাতু থেকে গঠিত। এর অর্থ আহার করা , রোজা ভঙ্গ করা , নাস্তা করা ঈত্যাদি। রোজাদার সারাদিন রোজা রাখার পর সূর্যাস্তের সময় রোজা ভাঙ্গতে যে খাবার খায় তাকে বলা হয় ইফতার। তেমনি পুরো রমজান মাসের রোজা পালনের পরে শাওয়াল মাসের প্রথম দিন স্বাভাবিক খাবারের অভ্যাসে ফিরে আসতে যে আনন্দ-উৎসব পালন করা হয় সে উৎসব উপলক্ষে যে দান করা হয় তাকে বলা হয় ফিতরা বা সাদাকাতুল ফিতর বা যাকাতুল ফিতর। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.)একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন , আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমলে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতাম এক সা খাদ্যদ্রব্য অথবা এক সা যব অথবা এক সা খেজুর ,অথবা এক সা পনির কিংবা এক সা কিশমিশ দিয়ে। ( মুআত্তা ইমাম মালেক :৭৫৬ ,মুসনাদে শাফি ,৯৩ ,মুসনাদে আব্দুর রাজ্জাক : ৫৭৮৭ , সুনানে দারেমি :১৭০৫ )

ফিতরা সংক্রান্ত আলোচনায় সা একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও বিষয়। শব্দটি পরিমাপের একটি একক হিসেবে আরবদের নিকট ব্যবহৃত হয়। মূলত দানাদার বস্ত পরিমাপে সা ব্যবহৃত হয়। প্রাচীন আরবে একজন পূর্ণ বয়স্ক মধ্যম গঠনের মানুষ যে বেশি বেটেও নয় আবার বেশি লম্বাও নয় তার দুই হাত একত্র করলে যে অঞ্জলি হয় ওই রকম  চার অঞ্জলি সমান এক সা। আধুনিক পরিমাপ পদ্ধতিতে আরবের সা-এর সমান আমাদের ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম। রাসূলুল্লাহ (সা:) ফিতরা প্রদানের ক্ষেত্রে যব, খেজুর,পনির, কিশমিশ, গম, ভুট্টাসহ কয়েকটি খাদ্যদ্রব্যের নাম উল্লোখ করেছেন এবং কোনটার ক্ষেত্রে এক সা আবার কোনটার ক্ষেত্রে অর্ধ সা পরিমাণ একজনের পক্ষ থেকে আদায় করতে বলেছেন। সুতরাং রাসুলুল্লাহ(সা.) যেটার ক্ষেত্রে এক সা উল্লেখ করেছেন সেটা এক সাই দিতে হবে আর যেটার ক্ষেত্রে অর্ধ সা উল্লোখ করেছেন সেটা অর্ধ সাই দিতে হবে। গত ১৫ জুন ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের বাইতুল মোকাররম কার্যালয়ে এক বৈঠকে জাতীয় পর্যায়ে ফিতরা নির্ধারণে হাদিসে উল্লেখিত বিভিন্ন দ্রবা ও পরিমাণ বিবেচনায় রেখে জন প্রতি সর্বোচ্চ এক হাজার ৬৫০ টাকা আর সর্ব নিম্ন ৬৫ টাকা ১৪৩৭ হিজরির ফিতরা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রত্যেক সামর্থবান মুসলমান যে যাকাতের নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক তাকে ফিতরা আদায় করতে হবে। ফিতরা আদায় করতে হবে নিজের পক্ষ থেকে এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানের পক্ষ থেকে। অতএব রোজার ত্রুটি মুক্তির জন্য আর দরিদ্র মুসলমানদের আহারের সংস্থানের জন্য সামর্থবানরা তাদের ফিতরা যথা নিয়মে আদায় করবেন এটি সময়ের দাবি।

error: দুঃখিত!