২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | রাত ৮:৩২
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
প্রথম ধাপে মুন্সিগঞ্জে আলু রোপন শুরু
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ১৮ অক্টোবর, ২০২০, এম এম রহমান (আমার বিক্রমপুর)

বর্তমানে বাজারে চড়া দামে বিক্রি হওয়া ‘আলু’ উৎপাদনে শীর্ষ জেলা মুন্সিগঞ্জে আগাম আলু রোপনে ব্যস্ততা শুরু হয়েছে কৃষকের।

এখন কার্তিক মাস এই সময়টাতেই মুন্সিগঞ্জের কৃষকরা প্রথম ধাপে আগাম আলু রোপন করেন। দ্বিতীয় ধাপে অগ্রহায়ন মাস এবং পৌষ মাস জুড়ে চলবে পুরো দমে আলু রোপন।

আলুর জন্য বিখ্যাত মুন্সিগঞ্জ জেলায় প্রথম ধাপে আলু রোপন শুরু করেছে কৃষকরা। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ায় চরের উঁচু জমিতে আলু রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

আলু রোপন, পরিচর্যা, দ্বিতীয় পর্যায়ে আলুসহ অন্যান্য সবজি আবাদের জমিগুলো প্রস্তুত করতেই চলে আসবে পুরোদমে আলু রোপনের সময়।

এখন থেকে শুরু করে আলুচাষি কৃষকদের কর্মব্যস্ততা থাকবে পৌষ মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। পাশাপাশি কৃষানীদের বেড়েছে ব্যস্ততা।

কৃষকরা শ্রমিক নিয়ে যে আলুর বীজ রোপন করছেন সেই আলুর বীজ বাড়ীতে বসে কেটে দিচ্ছেন নারীরা। শুধু তাই নয়, আলুু কাটার জন্য শ্রমিকদের দিতে হয় নগদ টাকা অথবা আলুর বীজ ব্যতিত আলুর অবশিষ্ট অংশ। স্থানীয়দের ভাষায় এটাকে কাটা আলু বা গোস্ত বলে। বীজ আলুগুলোর যেস্থানে অংকুর বা চোখ আছে সেটাকে আলাদা করার পর আলুর যে বাকী অংশ থাকে সেটার দামও বেশ ভালো। খাবার আলু হিসেবেই সেটা বাজারে বিক্রি করে দেয়া হয়। আস্ত আলুর চেয়ে কেজিতে ৫ টাকা কমে বিক্রি হয় গোস্ত আলু।

আলুর বীজ বাড়ীতে বসে কেটে দিচ্ছেন নারীরা। ছবি: আমার বিক্রমপুর।

সরেজমিনে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার জাজিরা, সিকদারকান্দি এবং বকচর এলাকার মেঘনার তীরে উচু জমিতে কৃষকদের আলু রোপন করতে দেখা গেছে। কোন কোন জমিতে ইতিমধ্যে আলু রোপন শেষ হয়ে গেছে। পরিচর্যার কাজে সেখানে কৃষকরা সময় দিচ্ছে।

এ সময় পাশেই হাবিজউদ্দিন মাঝি নামক বকচর গ্রামের একজন কৃষক তার জমিতে আগাম আলু রোপন করছেন। তিনি এ জানান, এখানে ৭০ শতাংশ জমিতে আলুু রোপন করেছেন তিনি। তিনি সর্বমোট আরো ৩১৫ শতাংশ জমিতে এ সপ্তাহেই আলু রোপনের কাজটি সম্পন্ন করবেন।

কৃষক হাবিজউদ্দিন মাঝি জানান, গতবছর আগাম আলু চাষ করে তিনি লাভবান হয়েছিলেন।

আরেক কৃষক সালামও তার নিজস্ব ৩শ শতাংশ জমিতে আলু রোপন করছেন। তিনি জানান, আগামী সাপ্তাহে মেঘনা তীরের শত শত একর জমিতে আলু রোপনের প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় কৃষকরা। পাশাপাশি অনেক কৃষক পেঁয়াজের চারা আবাদেও ব্যস্ত সময় পার করছেন। এসব পেঁয়াজের চারা আলু উঠার পর আলুর জমিতে রোপন করবেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: শাহ আলম জানান, এবছর ফসলি জমির পানি দ্রুত নেমে গেছে। তাই উঁচু জমিগুলোতে আগাম আলু রোপন শুরু করেছেন মুন্সিগঞ্জের কৃষকরা। আর ১০ দিন পর পুরো জেলা জুড়ে আলু রোপন বেড়ে যাবে। আমরা এবছর ১ হাজার আলু চাষিকে ১শ গ্রাম করে পেঁয়াজের বীজ দিবো। এটা তারা আলুর জমিতে সহায়ক ফসল হিসেবে রোপন করবে। এতে কৃষকদের অতিরিক্ত সার ও কিটনাশক ব্যবহার করতে হবে না। ১শ গ্রাম পেঁয়াজের বীজ থেকে কৃষকরা ৫ মন পেঁয়াজ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। এতে কৃষকরা আলুতে ক্ষতির সম্মুখিন হলে সেটা পুষিয়ে নিতে পারবে।

error: দুঃখিত!