প্রচুর খেয়েও কিছু মানুষ শুকনো থাকেন কীভাবে?
কিছু মানুষ আছেন যারা ওজন কমাতে খুব পরিশ্রম করেন। বেছে বেছে খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়ামের পরও তাদের ওজন একটুতেই বেড়ে যায়। আবার তারই হয়ত একজন বন্ধু আছে যে ক্রমাগত খেতে পারেন ভাত, বিরিয়ানি, ফাস্টফুড, কাবাব। অথচ সারা বছরই থাকেন ছিপছিপে! এর রহস্য কী? গবেষকরা বের করেছেন এর উত্তর।
প্লস জেনেটিকস নামের ওপেন-অ্যাকসেস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাটিতে দেখানো হয়, প্রবল স্থুলতা (ওবেসিটি) ও ছিপছিপে গড়ন- দুটোর পেছনেই রয়েছে বংশগতির হাত। এর কারণেই কিছু মানুষের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে সহজেই।
ওবেসিটি নিয়ে সাধারণত যেসব গবেষণা হয় তার বিষয় থাকে পরিবেশ, অর্থাৎ বেশি ক্যালোরির খাবার খাওয়া বা অলস জীবনযাপনের প্রভাব। কিন্তু জেনেটিকসও নিঃসন্দেহে ওবেসিটির প্রবণতা বাড়াতে পারে। অর্থাৎ বেশি বেশি বার্গার খেলেই ওবেসিটি হবে এটা বলে দেওয়া যায় না, ব্যাপারটা আসলে অনেক জটিল।
গবেষণায় দেখা যায়, কিছু মানুষ জেনেটিক কারণেই শুকনো-পাতলা। কারণ যেসব জিনের কারণে মানুষের ওজন বাড়ে সেসব জিন এই মানুষটির মাঝে কম আছে। তারা বেশি পরিমাণে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলেও তাদের ওজন সহজেই অতিরিক্ত হয় না। অনেকেই আছেন, মোটা মানুষ দেখতে পেলে ধরে নেন তারা অতিরিক্ত খায়, তাদেরকে দুকথা শুনিয়ে দিতে ছাড়েন না। আসলে কিন্তু তাদের জেনেটিক মেকআপটাই এমন, যে তারা নিজেদের ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না সহজে।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজের গবেষকরা প্রায় ১৪ হাজার মানুষের ডিএনএ নিয়ে গবেষণা করেন। এর মাঝে ১,৬২২ জন শুকনো মানুষ, ১৯৮৫ জন প্রবল স্থুল (ওবিস) মানুষ ও ১০,৪৩৩ জন স্বাভাবিক স্বাস্থ্যের মানুষ ছিলেন।
দেখা যায়, যারা ওবিস, তাদের ‘জেনেটিক রিস্ক স্কোর’ সাধারণ ওজনের মানুষের তুলনায় বেশি ছিল। অর্থাৎ তাদের জিনই বলে দিচ্ছে তাদের অনিয়ন্ত্রিত ওজনের ঝুঁকি বেশি। জিনের কারণে কী করে ওজন বাড়ে, তা পরিষ্কার নয়। তবে অতীতের কিছু গবেষণায় বলা হয়, মেটাবলিজমের সাথে এর সম্পর্ক আছে। অর্থাৎ জেনেটিক কারণেই একজন মানুষের মেটাবলিজম ধীর হয় ও এর কারণে তার ওজন বাড়ে।
সারা পৃথিবীতেই ওবেসিটির সমস্যাটি বেড়ে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ শতাংশ মানুষ ওবিস। যুক্তরাজ্যে প্রতি চারজনে একজন ওবিস। এই গবেষণা ওবেসিটি কমাতে কাজে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গবেষণার লেখক অধ্যাপক সাদাফ ফারুকি জানান, তারা শুকনো মানুষের শরীরের এমন জিন আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন যা কিনা ওজন অতিরিক্ত বাড়তে বাধা দেয়। এই জিন থেকেই তারা ওজন কমিয়ে আনার উপায় বের করতে পারবেন।
সূত্র: আইএফএলসায়েন্স


