২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
শুক্রবার | রাত ৯:৩৯
মুন্সিগঞ্জে প্রবাসীর সাথে পরকীয়ার বলি হলেন স্বামী, স্ত্রী গ্রেপ্তার
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৩, নিজস্ব প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জে সিরাজদিখানে পরকীয়া প্রেমের বলি হয়েছেন স্বামী মোকসেদুর রহমান (৪০)। এ ঘটনায় স্ত্রী আসমা বেগম (৩৫) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেন এই নারী।

গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯ টায় গেন্ডারিয়া থেকে ঐ নারীকে গ্রেপ্তার করে সিরাজদিখান থানা পুলিশ। পরে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। আজ সোমবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২২ বছর আগে বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানার ঠাকুর মল্লিক গ্রামের মৃত লতিফ শিকদারের মেয়ে আসমা বেগম (৩৫) এর সাথে ঢাকার গেন্ডাারিয়ার মৃত মো. হাবিবুল্লাহর ছেলে মোকসেদুর রহমানের বিয়ে হয়। বিয়ের ২২ বছর সংসার জীবনে তাদের ৩ ছেলে সন্তান রয়েছে।

প্রায় ৩ বছর আগে স্ত্রী আসমা বেগমের সাথে সিরাজদিখান উপজেলার চিত্রকোট ইউনিয়নের কালিপুর গ্রামের আনোয়ার সরকারের পুত্র সৌদিআরব প্রবাসী জাহিদ সরকারে সাথে প্রেমের সম্পর্ক হয়। নিহত মোকসেদুর রহমানকে জাহিদ বিদেশে নেওয়ার আশ্বাস দেয় এবং জাহিদ নিজ খরচে মোকসেদুর রহমানকে পাসপোর্টও করিয়ে দেন। এর মধ্যে জাহিদের সাথে মোকসেদার সম্পর্ক আরও গভীর হতে থাকে।

বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে গত ৩ জানুয়ারি মোকসেদুরকে তার স্ত্রী আসমা সিরাজদিখানের কালিপুর গ্রামে প্রেমিক জাহিদের কাছে পাঠান। সেখানে রাতে মোকসেদুরকে ঘুমের ঔষধ খাওয়ান জাহিদ। পরে ঐ রাতেই আরও ২ জনের সহযোগিতায় জাহিদ ওই মোকসেদুরকে হত্যা করে হাত-পা বেঁধে লাশ নদীর তীরে ফেলে দেন। প্রেমিক জাহিদ সরকার ১১ জানুয়ারি সৌদি আরব ফিরে যান।

এরপর ১৭ জানুয়ারি সকাল ১০ টার দিকে সিরাজদিখান উপজেলার চিত্রকোট ইউনিয়নের বরাম বাজার সংলগ্ন্ ইছামতি নদীর তীর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মোকসেদুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

এদিকে মোকসেদুর রহমানের স্ত্রী আসমা বেগম তার স্বামী নিখোঁজ রয়েছে মর্মে রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। ওই সাধারন ডায়েরী ও যুবকের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে পুলিশের তদন্তে পুরো ঘটনাটি উদঘাটন হয়।

সিরাজদিখান থানার ওসি মিজানুল হক জানান, প্রথমে অজ্ঞাত অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তার লাশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই ঘটনাটি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। তদন্তের একপর্যায়ে গতকাল আসমা আক্তারকে আটক করা হলে তিনি পুলিশকে পুরো ঘটনাটি জানান। পরে হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে তাকে ও তার প্রেমিক জাহিদ সরকারসহ অজ্ঞাত ২-৩জনের নাম রুজু শেষে আদালতে প্রেরণ করা হয়। সেখানে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি।

error: দুঃখিত!