১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
শনিবার | দুপুর ১:০৯
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
একনেকে পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত ফ্লাইওভার ও চারলেন সড়ক প্রকল্প অনুমোদন
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ৮ ডিসেম্বর, ২০২০, বিশেষ প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

ঢাকার সাথে মুন্সিগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ও সহজ করতে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি এলাকা থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও চারলেন সড়ক প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন করেছেন।

পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পটি  ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ২৪২ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (০৮ ডিসেম্বর) একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শেরে বাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সংযুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

সভা শেষে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন; স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক; বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এবং ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী সভার কার্যক্রমে অংশ নেন।

এই খবরে মুন্সিগঞ্জে আনন্দের বন্যা বইছে। আজ বিকালে মুুন্সিগঞ্জ জেলা শহরে একটি ‘আনন্দ মিছিল’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ঢাকার সাথে মুন্সিগঞ্জের সড়ক ও নৌ পথের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার দাবি দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংগঠন এই দাবিতে আন্দোলনও করেছে।

মুন্সিগঞ্জবাসীর এই দাবি ২০১৯ সালের জুনে জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস। এরপর তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের নিয়ে একটি প্রজেক্ট প্রোফাইল তৈরি করে দেন।

পড়তে পারেন:

৯ দশমিক ৬ কিলোমিটার এ এক্সপ্রেসওয়ে এবং রাস্তা প্রশস্তকরণে ব্যয় হবে ২ হাজার ২ হাজার ২৪২ কোটি টাকা।

‘পঞ্চবটি হতে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

এটি বাস্তবায়িত হলে মুন্সিগঞ্জ জেলার সঙ্গে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যয় সাশ্রয়ী যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ভ্রমণ সময় ৬২ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমবে, যানবাহনের গতিসীমা ৪ দশমিক ৪৫ গুণ বৃদ্ধি পাবে এবং যানবাহনের বিলম্ব সময় ৭৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমবে বলেও সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পটভূমি ও যৌক্তিকতা তুলে ধরে সেতু কর্তৃপক্ষ বলেছে, ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়কে ধলেশ্বরী নদীর ওপর মুক্তারপুর (ষষ্ঠ বাংলাদেশ চীন মৈত্রী) সেতু ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। এ সেতু নির্মাণের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মুন্সিগঞ্জের সঙ্গে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য অংশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা। মুন্সিগঞ্জ-মুক্তারপুর সড়কটি উত্তরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কের পঞ্চবটি এবং দক্ষিণে মুক্তারপুর সেতুর সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত সড়কটি খুবই সংকীর্ণ ও আঁকাবাঁকা।

অন্যদিকে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুরে পাঁচটি সিমেন্ট কারখানা থাকায় এবং ওই এলাকায় আলু সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ থাকায় প্রচুর ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে প্রায় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় এবং এর ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়কের প্রশস্ততা গড়ে ৬ মিটার এবং এ সড়কে বিদ্যমান অ্যানুয়াল এভারেজ ডেইলি ট্রাফিক (এএডিটি) ১৭ হাজার ৯১০টি।

ট্রাফিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ যানবাহনের সংখ্যা হবে ২০২৩ সালে দৈনিক ২৩ হাজার ৯২০টি, ২০২৮ সালে দৈনিক ৩০ হাজার ৫৬০টি, ২০৩৩ সালে দৈনিক ৩৯ হাজারটি এবং ২০৪৩ সালে দৈনিক ৬৩ হাজার ৫৮০টি।

এ পরিপ্রেক্ষিতে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়কটি প্রশস্তকরণের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন করা হয়। এ সড়কে বিদ্যমান যানবাহনের দৈনিক সংখ্যা বিবেচনায় অ্যাটগ্রেড সড়ক দু’লেনে এবং এই সড়কের ওপর দু’লেন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় সাত কিলোমিটার অ্যাটগ্রেড সড়ক দু’লেনে এবং ৩ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার অ্যাটগ্রেড সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে।

এছাড়া দু’লেন সড়কের ওপর ৬ দশমিক ২৫ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং ওঠা-নামার জন্য ছয়টি র‌্যাম্প থাকবে, যার দৈর্ঘ্য হবে ২ দশমিক ৮০৫ কিলোমিটার।

দক্ষিণাঞ্চলের যানবাহনগুলো এই সড়কের মাধ্যমে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচল করতে পারবে।

error: দুঃখিত!