২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | সকাল ৬:১৪
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
নারী নির্যাতন ঠেকাতে সাংবাদিকদেরও ভূমিকা রয়েছে-মুন্সিগঞ্জে অ্যাটর্নী জেনারেল
খবরটি শেয়ার করুন:

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অপতৎপরতা চলছেই। নারীদের ওপর অত্যাচার-ধর্ষণসহ এসব অপকর্মে তৎপর এক শ্রেণীর মানুষ। আমাদের সচেতন হয়ে এগুলো প্রতিরোধ ও মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে’।

শনিবার (২১ অক্টোবর) মুন্সিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের (বিএইচআরসি) ঢাকা দক্ষিণ অঞ্চলের মানবাধিকার সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএইচআরসি’র সভাপতি অধ্যাপক আবু ইউসুফ ফকিরের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য অ্যাড. হোসনে আরা বেগম বাবলী, মুন্সিগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও মহাসচিব ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার, ঢাকা দক্ষিণ বিভাগের গভর্নর কুতুবুদ্দিন আকসির প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুবে আলম বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। সেদিন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে কলঙ্কিত করা হয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসকে। বঙ্গবন্ধুর সেই খুনিদের বিচার না করারও ষড়যন্ত্র চলে। তৎকালীন আইনমন্ত্রী বিচারের সকল পথ বন্ধে নানা ছল-চাতুরির আশ্রয় নিয়েছিলেন। যার ফলে এক সময় বিচারপতিরাই সে বিচার কাজ করতে বিব্রতবোধ করতেন’।

‘জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর তার নেতৃত্বে জাতির সেই কলঙ্ক মুছতে আমরা খুনিদের বিচার করতে পেরেছি। সে বিচার ছিল সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং আসামিদের আপিল ও রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়াসহ সব ধরনের আইনি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে’।

তিনি বলেন, ‘২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ফের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। শেখ হাসিনাকে হত্যার নীলনকশায় তাকেসহ নিরীহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। সেদিন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঁচে গেলেও তার দেহরক্ষীসহ প্রাণ হারান অনেক নেতাকর্মী’।

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের মানবাধিকার কমিশন দেশ ও জাতির মঙ্গলে অগ্রসর ভূমিকা পালন করে আসছে। মানবাধিকার নিশ্চিতের ফলে দেশের মানুষের অধিকারগুলো প্রাধান্য পায়’।

‘নারী নির্যাতন ঠেকাতে সাংবাদিকদেরও যথাযথ ভূমিকা রয়েছে। মিডিয়ার মাধ্যমেই দেশবাসী নারীদের নানা অবস্থা সম্পর্কে অবগত হন। মিডিয়ার প্রচার ও মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা দেশের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনও কাজ করে চলেছে’।

তবে যেহেতু মানুষের অধিকার রক্ষায় মানবাধিকার কমিশন নামেই সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেহেতু বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নামটির পরিবর্তন করা উচিৎ বলে পরামর্শ দেন তিনি। কারণ, সরকারি-বেসরকারি দু’টি প্রতিষ্ঠানের নাম একই হওয়ায় বিভ্রান্ত হন অনেকে।

পরে অ্যাটর্নি জেনারেল নিজস্ব তহবিল থেকে জেলা পুলিশ লাইনে ‘এসপি মাহবুব বীরবিক্রম পাঠাগারে’ বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিভিন্ন বই দেন।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সফিউদ্দিন মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাও করেন তিনি। সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ডা. আবু ইউসুফ ফকির, মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসাইন, ওসি (তদন্ত) মঞ্জুর মোর্শেদ, ওসি (প্রশাসন) সাইফুল ইসলাম সবুজসহ মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা।

error: দুঃখিত!