২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
শনিবার | সকাল ৭:৫৭
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
নদী ভাঙনে দিশেহারা দিঘীর পাড়ের নদীপাড়ের মানুষ, দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের আকুতি
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ৩১ মে, ২০২১, শিহাব আহমেদ (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার দিঘীর পাড় ইউনিয়নের মূলচর এলাকার অন্তত ২০০ পরিবার দিন কাটাচ্ছে পদ্মার ভাঙন আতঙ্কে। বর্ষা মৌসুমের আগে নদীপাড়ের ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থার আকুতি তাদের।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ১৫ বছর যাবৎ এই এলাকাটি ভাঙছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের আগে এই ভাঙন আরও তীব্র রুপ ধারন করছে। নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে স্থানীয় অন্তত ৩০-৩৫ টি পরিবারের ঘড়বাড়ি ও ফসলি জমি।

নদী ভাঙতে ভাঙতে ঘড়বাড়ির সামনে চলে এসেছে। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদীপাড়ের পরিবারগুলো। ছবি: আমার বিক্রমপুর।

স্থানীয় নদীপাড়ের বাসিন্দা ওবায়দুল্লাহ (৬০) জানান, এই এলাকার অন্তত ২০০ পরিবার ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। নদীভাঙনে তার প্রায় ২০০ শতাংশ জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সেখানে কৃষিজমিও ছিলো।

স্থানীয় শুক্কুর গাজি (৪৫) জানান, তিনি কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। নদীতে বিলীন হয়ে গেছে তার ২৮ শতাংশ জমি। বর্তমানে যে ঘড়টিতে পরিবার নিয়ে থাকেন সেটি ৬ শতাংশ জমির উপর। যে কোন সময় এই ঘড়টিও বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তার।

স্থানীয় মুদি দোকানদার কাশেম মৃধা বলেন, নদী ভাঙনে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। নদীতে তার ১২৬ শতাংশ জমি বিলীন হয়ে গেছে। ১৫ বছর আগে নদীতে তার প্রথম ঘড় বিলীন হয়। দ্বিতীয় দফায় ৩ বছর আগে ভাঙে আরও একটি ঘড়। নদীতে সবকিছু বিলীন হওয়ার পরে নিঃস্ব হয়ে এখন থাকেন অন্যের জায়গায়। সেখানেই গড়ে তুলেছেন ক্ষুদ্র মুদি দোকান। কিন্তু নদী ভাঙতে ভাঙতে এখন তার দোকানের সামনে চলে এসেছে। যে কোন সময় দোকানটিও নদীতে ভেঙে পড়বে।

স্থানীয়দের দাবি, আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মানের উদ্যোগ নিতে হবে।

এ বিষয়ে টংগিবাড়ী উপজেলা পান্নি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারি প্রকৌশলি সুব্রত দাস ‘আমার বিক্রমপুর’ কে বলেন, গতকাল (শনিবার, ২৯ মে) আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এলাকাটি পরিদর্শন করেছি। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই জরুরী ভিত্তিতে ভাঙন রোধে ঐ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হবে। স্থায়ী বাঁধ নির্মানের ব্যাপারে আমরা পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নিবো।

error: দুঃখিত!