১৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
বৃহস্পতিবার | দুপুর ১:৩১
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ইউপি চেয়ারম্যানের এমন মৃ.ত্যু, মানতে পারছেন না কেউই
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ৭ জুলাই ২০২৪, নিজস্ব প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার পাঁচগাও গ্রামে স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে পাচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুমন হালদারকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ইউপি চেয়ারম্যানের এমন মৃ.ত্যু, মানতে পারছেন না ওই এলাকার বাসিন্দাসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা। তারা এ ঘটনায় ক্ষোভ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

জানা গেছে, পাঁচগাও ওয়াহেদ আলী দেওয়ান উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন ছিলো আজ রোববার। সেখানে মোট ভোট ছিলো ১১ টি। ফলাফলে দেখা যায়, সভাপতি পদে ইউপি চেয়ারম্যান সুমন সমর্থক দেওয়ান মনিরুজ্জামান পেয়েছেন ৯ ভোট। আর তার প্রতিদ্বন্দী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিলেনুর রহমান মিলন পেয়েছেন মাত্র ২ ভোট। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান সুমনকে গুলি করে হত্যা করেন মিলনের চাচাতো ভাই নুর মোহাম্মদ হাওলাদার।

এ ঘটনায় পুলিশ ৩ জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন, পাঁচগাও এলাকার কাওসার হাওলাদার (৪৭), শেকুনুর হাওলাদার (৫৫) ও নুর হোসেন (৫০)। মূল অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ হাওলাদার পলাতক রয়েছেন।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাঁচগাও আলহাজ্ব ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ওই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। দুপুর ২ টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যান গুলিবিদ্ধ ইউপি চেয়ারম্যান। পরে তার মরদেহ টংগিবাড়ী থানায় পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসা হয়। প্রায় দেড় ঘন্টা পর বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় মরদেহে হৃদস্পন্দনের অস্তিত্ব রয়েছে এমনটা দাবি উঠলে পুলিশ তৎক্ষণাৎ মরদেহটি মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষা-নিরিক্ষা শেষে ইউপি চেয়ারম্যান সুমন হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নিহত সুমন পাঁচগাও গ্রামের পিয়ার হোসেন হাওলাদারের পুত্র। তিনি ৩ বছর বয়সী এক ছেলে ও ৫ বছর বয়সী এক মেয়ে সন্তানের জনক।

এদিকে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ইউপি চেয়ারম্যানের এমন মৃ.ত্যু, মানতে পারছেন না ওই এলাকার বাসিন্দাসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা। তারা এ ঘটনায় ক্ষোভ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

প্রকাশ্য দিবালোকে দায়িত্বে থাকা ইউপি চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় হতবিহবল আউটশাহী ইউপি চেয়ারম্যান মো. সেকান্দর বেপারী। তিনি বলেন, ‘একজন ইউপি চেয়ারম্যানেরও দেশে কোন নিরাপত্তা নেই। সামান্য কারণে তাকে গুলি করে হত্যা করা হলো। এ ঘটনায় আমি শঙ্কিত। এরপরও প্রধানমন্ত্রীর উপর আস্থা আছে। তিনি ন্যায়বিচারের ব্যবস্থা করবেন।’

টংগিবাড়ী উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এমিলি পারভীন বলেন, ‘এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এরকম ঘটনায় পুরো টংগিবাড়ী উপজেলাবাসী বিমর্ষ। সকলের মত আমিও ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। পলাতক যারা রয়েছেন তাদের যেন দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়।’

পাঁচগাও এলাকার বাসিন্দা নুরে আলম বলেন, ‘সুমন খুব ভালো ও জনপ্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। এলাকার সবাই তাকে পছন্দ করতেন। সকালেও তাকে হাসিখুশি দেখেছি। দুপুরেই শুনলাম মৃত্যুর খবর। এমন খবর মানার মত না। আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

এদিকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সোহেল মোল্লা বলেন, ‘নুর মোহাম্মদ ও ভোলাসহ মোট ৯ জন সন্ত্রাসী ৪টি মোটরসাইকেল নিয়ে ওয়াহেদ আলী দেওয়ান উচ্চ বিদ্যালযয়ে প্রবেশ করে। সুমন হাওলাদার বেলা ১১ টার দিকে পাঁচগাও ওয়াহেদ আলী দেওয়ান উচ্চ বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসে ছিলেন। এ সময় নুর মোহাম্মদ ও ভোলা দুজনে দুইটি পিস্তল নিয়ে এসে সুমন হালদার এর কাছে জানতে চায় নুর মোহাম্মদ ও ভোলার সমর্থক মিলেনুর কেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। এসময় সুমন হাওলাদার বলেন, ‘কেন ফেল করলো আমি কি করে বলবো।’ এ কথা বলার সাথে সাথে ভোলা চেয়ারম্যান সুমন হাওলাদারের বুকে লাথি মারলে সুমন চেয়ার থেকে পড়ে যায়। সাথে সাথে বুকের মধ্যে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে নুর মোহাম্মদ। এসময় সুমন দৌড়ে পালিয়ে গেলেও পিছনে পিছনে গুলি ছুড়তে থাকে ভোলা ও নুর মোহাম্মদ।

তিনি আরও বলেন, ‘আহত সুমন হালদার দৌড়ে গিয়ে পাশের এক বাড়ির দুই ঘরের মধ্য স্থানে পড়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে মাথায় পানি দিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করেন স্থানীয় লোকজন। এরপর আমি সুমনকে উদ্ধার করে স্থানীয় মনিরুজ্জামানের গাড়ি দিয়ে দুপুর পৌনে ২ টার দিকে টংগিবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরিক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

টংগিবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রণয় মান্না দাস বলেন, ‘দুপুর পৌনে ২ টার দিকে মৃত অবস্থায় ইউপি চেয়ারম্যানকে হাসপাতালে আনা হয়। তার বুকের ডান পাশের নিচে গুলির চিহ্ন রয়েছে।’

মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান ৩ জনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিহত ইউপি চেয়ারম্যানের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

error: দুঃখিত!