গজারিয়ার মতো জায়গায় এই গ্রন্থাগার যেন অন্ধকারে একঝলক আলো
‘গজারিয়ার মতো জায়গায় এই গ্রন্থাগার যেন অন্ধকারে একঝলক আলো। আমি সপ্তাহে অন্তত তিন দিন এখানে আসি। খুব সুন্দর পরিবেশ। কিছুক্ষণ পড়লে মন ভালো হয়ে যায়।’
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ‘গজারিয়া পাবলিক লাইব্রেরির’ পাঠক রন্টি সাহা এভাবেই তাঁর আনন্দের কথা বলেন।
আরেক পাঠক সুস্ময় সবুজ বলেন, ‘এখান থেকে নিয়মিত বই নিই এবং সময়মতো ফেরত দিই।’
লাইব্রেরির সদস্য ও বাঘাইকান্দি কলিমউল্লাহ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঈন আহমেদ জানান, পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সহপাঠ খুবই জরুর। সহপাঠ না করলে আনন্দ পাওয়া যায় না। আনন্দ না থাকলে পাঠ্যবইয়ে মন বসবে কেমন করে?
পাঠকদের এমন অনুভূতিতে খুশি গ্রন্থাগারের সভাপতি মো. আবদুল খালেক। জানান, কেউ লাইব্রেরিতে পড়তে এলে তাঁরা খুব সম্মানিত বোধ করেন। গ্রন্থাগারে প্রতিদিন শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়স্করা আসেন। তাঁরা বই, পত্রিকা, ছবি দেখেন, নানা রকম প্রশ্ন করেন। বই পড়া শেষে সীমিত সাধ্যের মধ্যেই শিশুদের চকলেট খেতে দেওয়া হয়। অনেক সময় তা কিনতেও কষ্ট হয়। এরপরও এই গ্রন্থাগার চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।
২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে বসে কয়েকজনের উদ্যোগে গড়ে ওঠে গজারিয়া পাবলিক লাইব্রেরি। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তৌহিদ হোসেন খান, নির্মাতা ইমেল হক, আলোকচিত্রী সাহাদাত পারভেজ প্রমুখ। গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবা বিলকিসও এই উদ্যোগের সঙ্গী হন।
২০১৫ সালের ২ জুন ভবেরচর কলিমউল্লাহ কলেজের কাছে একটি ভাড়া বাড়িতে এই গ্রন্থাগারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট গবেষক ও কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ। প্রথমে সাহাদাত পারভেজের ব্যক্তিগত সংগ্রহের ২০০ বই দিয়ে এই গ্রন্থাগারের যাত্রা শুরু হয়। এরপর বই দিয়ে অনেক ব্যক্তি ও প্রকাশনা সংস্থা সহায়তা করে। এখন এই গ্রন্থাগারে দেড় হাজারেরও বেশি বই।
অল্প দিনের মধ্যেই গজারিয়াবাসীর কাছে জনপ্রিয় হয়েছে এই গ্রন্থাগার। এটি এখন মানুষের শিকড় সন্ধানের বাতিঘর। এখানে এসে মানুষ তাদের শিকড়টাকে খুঁজে বেড়ায়।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়, শিক্ষকদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠক, শিশুদের স্বপ্ন দেখানোর আসর, মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক আলোচনা, ঈদ পুনর্মিলনীসহ বছরব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় এই গ্রন্থাগারে।
প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত এই গ্রন্থাগার খোলা থাকে। শুক্রবার ছুটির দিনেও বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত খোলা রাখা হয়। গ্রন্থাগারটি সবার জন্য উন্মুক্ত।









