৩রা ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
রবিবার | রাত ৯:১০
খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার মুন্সিগঞ্জের কৃতি সন্তান শফি বিক্রমপুরীর মৃত্যু
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ১৯ অক্টোবর ২০২৩, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

খ্যাতনামা চলচ্চিত্রকার ও রাজনীতিবিদ শফি বিক্রমপুরী মারা গেছেন। ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বুধবার (১৮ অক্টোবর) ভোর ৪ টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহে ওয়াইন্না ইলাইহে রাজেউন)। গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিচালক সমিতির উপমহাসচিব অপূর্ব রানা।

জানা গেছে, মৃত্যুর আগে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন শফি বিক্রমপুরী। ব্যাংককে যাওয়ার আগে গেল জুনে রাজধানীর একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সেসময় শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

শফি বিক্রমপুরী বাংলা ১৩৫০ সালের ২০ আষাঢ় (৪ জুলাই, ১৯৪৩ ) মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার মত্তগ্রামে তার নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সাল থেকে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন তিনি।

১৯৬৫ সালে দক্ষিণাঞ্চলের লোকজ প্রেমকাহিনী অবলম্বনে নির্মিত ‘গুনাই বিবি’ সিনেমাটি যৌথ প্রযোজনার মাধ্যমে তিনি প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। সে সময় হলিউডের বিখ্যাত ইংরেজি ছবি ‘এঞ্জেলিক’ এবং ‘ফান্টুমাস’ সিনেমা দু’টিও পরিবেশনা করেন তিনি।

১৯৭২ সালে খ্যাতিমান পরিচালক সুভাষ দত্ত পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ এবং শহিদুল হক খান পরিচালিত ‘কলমি লতা’ সিনেমা দু’টি যৌথভাবে প্রযোজনা ও পরিবেশনা করেন। ১৯৭৮ সালে সম্পূর্ণ রঙিন সিনেমা ‘রাজদুলারী’র মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে তার অভিষেক ঘটে।

১৯৮৯ সালে ঢাকার মালিবাগে ‘পদ্মা’ এবং ‘সুরমা’ নামে দু’টি সিনেমা হল নির্মাণ করে প্রদর্শক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন শফি বিক্রমপুরী। তিনি ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জের সিনেমা হল মালিক সমিতির সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সরবোর্ডের সদস্য ছিলেন।

শফি বিক্রমপুরীর প্রযোজনায় নির্মিত ফোক ফ্যান্টাসি জাদুর সিনেমা ‘ডাকু মনসুর’, ‘বাহাদুর’ ও ‘রাজদুলারী’ পরপর সুপারহিট হওয়ায় চলচ্চিত্রাঙ্গনে চমক সৃষ্টি হয়। এরপর তিনি ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘সবুজ সাথী’, ‘সকাল সন্ধ্যা’, ‘মাটির কোলে’, ‘শশীপুন্নু’, ‘শান্তি-অশান্তি’, ‘জজসাহেব’, ‘দেনমোহর’ ও ‘অবুঝ মনের ভালোবাসা’সহ অনেক জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দেন।

তিনি অনেক জনপ্রিয় শিল্পী কলা-কুশলীকে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছেন।

এছাড়া একজন সমাজ সেবক হিসেবে তিনি বিক্রমপুরে প্রতিষ্ঠা করেছেন নাসিমা শফি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেগম ফাতেমা আরশেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়, আল মদিনা জামে মসজিদ এবং নেত্রকোনায় পাঁচকাহনিয়া ফাতেমা আমীর আলী দারুল উলুম মাদ্রাসা এবং দশাল আশরাফুল উলুম হাফেজিয়া মাদরাসা।

১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে অনুষ্ঠিত ২য় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচনী এলাকা নং- ১৭৮, ঢাকা-৫ (শ্রীনগর- লৌহজং) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। নির্বাচন শেষে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আহবানে এবং সেসময়ের বিএনপির মহাসচিব অধ্যাপক ডা: এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সহযোগীতায় তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় পদে থেকে দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি ন্যায়-নীতিবান, দেশপ্রেমিক সর্বোপরী পরিচ্ছন্ন ও আদর্শবান রাজনীতিবিদ হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত।

রাজনীতির পাশাপাশি শেষ জীবনে তিনি সমাজসেবা এবং গ্রন্থ লেখায় ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। তার লেখা অত্যন্ত আলোচিত গ্রন্থ আমার দেখা ঢাকার পঁচাত্তর বছর (১৯৪৭-২০২২) চলতি বছর সূচীপত্র প্রকাশনী থেকে বের হয়েছে।

error: দুঃখিত!