২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | রাত ১:৪৯
‘কানাডার লটারি’র নামে মুন্সিগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রী’র সাথে প্রতারণা
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ৯ নভেম্বর, ২০২০, শিহাব আহমেদ (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জে কানাডায় নেয়ার কথা বলে ‘অভিবাসন প্রত্যাশী’ এক নারীর সাথে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগী বিবাহিত ঐ নারী নিজের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করতে চাননি। তবে তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়নে। তিনি ঐ এলাকার একজন প্রবাসীর স্ত্রী।

২৫ বছর বয়সী ঐ নারী জানান, গত দুই-তিন মাস আগে হঠাৎ করেই ফেইসবুকে তিনি একটি পোষ্ট দেখতে পান। কানাডায় ক্লিনারের ভিসায় নারী কর্মী নেয়া হবে। সেটা দেখে তিনি সিদ্ধান্ত নেন বিদেশে যাওয়ার। এরপর স্বামীকে না জানিয়ে যোগাযোগ করেন ঐ পোষ্টে দেয়া ফোন নাম্বারে। তার স্বামীও প্রবাসে রয়েছেন।

ফোনে তাকে ঢাকার মিরপুর ১০ এর হেয়ার প্লাজায় অবস্থিত একটি অফিসের ঠিকানা দেয়া হয়। তিনি তার বড় বোন সহ সেখানে কয়েকদিন যাতায়াতের পর তাদেরকে ফোনে জানানো হয় তিনি কানাডায় যাওয়ার লটারি জিতেছেন। তবে তার বড় বোন সেই সুযোগ থেকে বাদ পড়েছেন। এরপর তিনি নিজে ও তার বড় বোন ঐ কথিত অফিসে গিয়ে কথা বলে তাদের কথা মত কথিত ‘রেজিষ্ট্রেশন’ এর নামে ৮ হাজার টাকা দিয়ে আসেন।

ঐ নারী জানান, ‘আমরা যখন অফিসটিতে গিয়েছি আমাদের মত আরও ২৪-২৫ জন নারী ছিলো তারাও কানাডায় যাওয়ান জন্য রেজিষ্ট্রেশন এর নামে ৮ হাজার করে টাকা দিয়েছে। তবে এর মধ্যে কতজন মুন্সিগঞ্জের তা বলতে পারবোনা। অফিসটির চারিদিকে কানাডার বিভিন্ন স্থাপনার ছবি টাঙানো ছিলো। দেখে মনে হয়েছে তার সত্যিকারার্থেই আমাদের কানাডায় নিয়ে যেতে পারবেন।’

‘তবে আমার সন্দেহ হয় যখন ঐ অফিসের কর্ণা নামের এক মহিলা ফোন করে দ্বিতীয় দফায় আমার কাছে আরও ১৭ হাজার ৯০০ টাকা চান। আমি তখন বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেই’

বলছিলেন ভুক্তভোগী সেই নারী

ভুক্তভোগী ঐ নারীর দেয়া ফোন নাম্বার সূত্রে মোবাইলে কথা হয় প্রতারক চক্রের সদস্য কর্ণা আক্তারের সাথে। তিনি স্বীকার করেন তাদের কাছে কানাডার কোন ভিসা নেই। তবে তিনি বলছেন, কানাডায় তাদের ল ইয়ার ফার্ম আছে। তাদের কাছে তারা বাংলাদেশ থেকে বেশ কয়েকজনের নাম পাঠিয়েছেন। তারা সেগুলো তদন্ত করবেন। তাই খরচ বাবদ তারা ৮ হাজার টাকা করে নিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম -ওকাপ মুন্সিগঞ্জের মাঠ কর্মকর্তা মি. ইউজিন ম্রং বলেন, ‘এটি একটি প্রতারণা সেটি আর বোঝার বাকি নেই। এই নারী প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে আমাদের অফিসে এসেছিলেন যাচাই-বাছাই করতে। এজন্যই আমরা প্রতিটি অভিবাসন প্রত্যাশী নারী ও পুরুষদের বলে থাকি বিদেশ যাওয়ার আগে যাচাই করতে।’

মুন্সিগঞ্জ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কানাডায় লটারিতে যাওয়ার কোন সুযোগই নেই। যারা এ ধরনের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সরল মনের মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘এর পাশাপাশি আমাদের সকলকে বিদেশ যাওয়ার ব্যপারে আরও সতর্ক হতে হবে। করোনা মহামারির পরে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বাড়বে। ইতিমধ্যেই সেই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এই সুযোগটাকেই কাজে লাগাতে উঠে-পড়ে লেগেছে কিছু মাফিয়া চক্র ও প্রতারকরা।’

error: দুঃখিত!