১৭ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
বুধবার | বিকাল ৩:৫৮
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
কল্পনা-রিপনের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল তুহিনের!
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ১৬ মার্চ, ২০২৩, শিহাব আহমেদ (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জ সদরের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান মহসিনা হক কল্পনা ও বর্তমান চেয়ারম্যান রিপন হোসেন পাটোয়ারির রাজনৈতিক আধিপত্য ও ক্ষমতা প্রদর্শনের দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল ইউনিয়নটির বড় মোল্লাকান্দি এলাকার আলমগীর সরকারের ছেলে শাহ কামাল সরকার তুহিনের।

আলমগীর-বিউটি দম্পতির ২ ছেলে ১ মেয়ের মধ্যে তুহিন ছিলো সবার বড়। তুহিনের মেঝ ভাই তন্ময় ও ছোট বোন আদুরী বড় ভাইয়ের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন। তুহিন স্কুল জীবনে পড়েছেন ঢাকার দনিয়া এলাকার স্বনামধন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।

মাধ্যমিক শেষে ঢাকা থেকে পরিবারসহ ফিরে এসেছিলেন প্রিয় গ্রাম বড় মোল্লাকান্দিতে। এলাকায় তুহিন ছিলেন সকলের কাছে প্রিয় ব্যক্তি। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বলি হলেন তুহিন।

তুহিনের বাবা আলমগীর সরকার মোল্লাকান্দির বর্তমান চেয়ারম্যান রিপন হোসেন পাটোয়ারির সমর্থক।

মঙ্গলবার সকাল ৮টা’র দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তুহিনের মৃত্যু হয়। বুধবার বিকালে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে আসা হয় তুহিনের বাড়িতে। এসময় স্বজন ও এলাকাবাসী কান্নায় ভেঙে পড়লে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের তৈরি হয়। পরে স্থানীয় আলুক্ষেতে জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা সামাজিক কবরস্থানে। তুহিনের নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনায় সর্বোচ্চ বিচারের দাবি করছেন পরিবার ও এলাকাবাসী।

গেল সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে টংগিবাড়ী উপজেলার পুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে খেলার মাঠে তুলে নিয়ে তুহিনকে নৃশংসভাবে পেটায় দুবৃত্তরা। ছেলের এমন নৃশংস মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তুহিনের মা বিউটি বেগম।

এসময় তুহিনের বাবা আলমগীর সরকার অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে মেধাবী ছাত্র ছিলো। ও ঢাকার দনিয়ায় বেসরকারি স্কুলে পড়তো। এসএসসিতে এ প্লাস পেয়েছিলো। এরপর যে কোন কারণে আমি দেশে চলে আসি ৫ বছর ধরে। আমার ছেলের সাথে কারও শত্রুতা নেই। আমি রিপন পাটোয়ারির নির্বাচন করেছি, আমার ছেলেও বিভিন্ন লোকজনের সাথে চলাফেরা করে। এজন্য কল্পনার লোকজন ওকে সন্দেহ করতো। মঙ্গলবার আমার ছেলে একটা অনুষ্ঠানে যায়। দেড় ঘন্টা সেখানে ছিলো। এর মাঝখানে বিরতি দিলে ওকে ধরে নিয়ে যায় পুরা প্রাইমারি স্কুলের পেছনে একটি খেলার মাঠে। সেখানে ওকে মাথায়সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে পেটানো হয়। এসময় তুহিন দৌড়ও দেয়। কিন্তু ওরা ৪০-৪৫ জন ওকে ব্যারিকেড দিয়ে ফেলে। এসময় মারতে মারতে ওকে পুকুরে ফেলা দেয়া হয়। আমার ছেলে এসময় ওদের কাছে জীবনভিক্ষা চায়। ওরা কথা শোনেনাই। চিৎকার শুনে আমার ভাতিজা ও আরেক নাতি যশলং ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের ছেলে সেখানে যায়। তারাও আমার ছেলের জীবনভিক্ষা চেয়েছে। কিন্তু ওরা আমার ছেলেকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। এমনকি ওকে দুইজনে ধরে কোলে তুলেছিলো। সেসসময়ও পাষন্ডরা তুহিনকে মারধর করে। আমি আমার ছেলে হত্যার কঠিন বিচার চাই।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান মহসিনা হক কল্পনা ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিপন হোসেনের পাটোয়ারির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সর্বশেষ গেল ২৪ জানুয়ারি কল্পনা পক্ষের জিয়া সরদারকে (৪৫) তুলে নিয়ে কুপিয়ে এবং গুলি করে আহত করার অভিযোগ উঠে রিপন হোসেন পাটোয়ারির দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, ঐ ঘটনার জেরে সোমবার তুহিনকে বেধড়ক পেটান কল্পনা পক্ষের লোকজন।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান রিপন হোসেন পাটোয়ারি বলেন, বিগত ৩ টি নির্বাচনে আমার পক্ষে ছিলো তুহিনের বাপ-চাচারা। সেই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমার প্রতিপক্ষ মহসিনা হক কল্পনার সমর্থক আজাহার মোল্লা, জিয়া সরদার, বাবু কাজি ও শওকতের নেতৃত্বে তুহিনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষের কোন লোকজন এই ঘটনায় জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন ইউনিয়নটির সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মহসিনা হক কল্পনা। তিনি বলেন, যাদের নামে অভিযোগ উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই তদন্ত করে দেখুক ঘটনার সময় তারা কোথায় ছিলেন। তুহিনকে যারা নৃশংসভাবে মেরেছে আমি তাদের বিচার চাই। তবে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে না পারে সেদিকে সজাগ থাকতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানাবো।

মুন্সিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল হাসান জানান, এ ঘটনার জেরে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় মোল্লাকান্দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

টংগিবাড়ী থানার ওসি রাজিব খান জানান, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে বলে জানতে পেরেছি। থানায় অভিযোগ সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

error: দুঃখিত!