মুন্সিগঞ্জ, ৪ এপ্রিল, ২০২২, বিশেষ প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জ শহর বাজারে গত কয়েকদিন যাবত প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। রোজায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মুন্সিগঞ্জ বাজারের বিক্রেতারা বেগুনকে ‘এক দামের পণ্য’ বানিয়ে ফেলেছেন।
বর্তমান বাজার অনুযায়ী এক কেজি বেগুনের দামে এক কেজি চালও মিলছে না। মোজাম্মেল কোম্পানির মিনিকেট চালের দাম ৬৭ টাকা, বনফুল প্রতি কেজি ৬০ টাকা। আর মুন্সিগঞ্জ শহর বাজারে এক কেজি বেগুনের দাম ৮০ টাকা। বেগুনের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।
জেলার আবাদকৃত বেগুনের প্রতি আগ্রহ কম। নরসিংদী থেকে আসা বেগুন মুন্সিগঞ্জ শহর বাজারে ব্যাপক চাহিদা। রোজা শুরুর এক সপ্তাহ আগে একই বেগুন বিক্রি হয়েছিল ৩০ টাকা। এরপর দুইদিন পর তা হয়ে দাঁড়ায় ৫০ টাকায়। তারপর দিন দিন বৃদ্ধি পেয়ে ৮০ টাকা গিয়ে ঠেকে।
গতকাল রোববার শহর বাজার সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
শহর কাঁচাবাজারের বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘রোজা আইলে বেগুনের চাহিদা বাড়ে, সেটা সক্কলেই জানে। এ আর নতুন কী। চাহিদা বাড়লে দাম তো একটু-আধটু বাড়বোই। আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হয়। তাই বেশি দামে বিক্রি করছি। পাইকারি বাজারে ৬০-৬৫ টাকা দাম পড়েছে। যা কাওরানবাজার থেকে আনা হয়।’
জুয়েল হোসেন নামে আরেকজন বিক্রেতা বলেন, মুন্সিগঞ্জের উৎপাদিত বেগুনের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ কম। অন্যদিকে নরসিংদীসহ অন্যান্য জেলার বেগুন আকার ও মানের দিক থেকে এগিয়ে। জেলার বেগুনের দাম অর্ধেক। কিন্তু দাম বেশি হলেও ক্রেতারা কিনছেন। তবে আজ থেকে বাজারে দাম কমে আসবে। কারণ তখন চাহিদা থাকবে না। কমে যাবে বেচাকেনা।
মালপাড়া এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, এবার রোজা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বাজারে বেগুন ৩০ টাকা থেকে ৮০ টাকা কেজি উঠেছে। অন্য সবজির দামের থেকে এটির পার্থক্য একটু বেশি।
শ্রীপল্লী এলাকার বেসরকারি চাকরিজীবী জাকারিয়া কায়সার জানান, বাজার মনিটরিং শক্তভাবে না করলে অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াতেই থাকবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধির কথা জানান তিনি।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক আসিফ আল আজাদ জানান, সরেজমিনে বাজারে গিয়ে দেখা হয়েছে খুচরা বিক্রেতারা পাইকারদের কাছ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বেগুন ক্রয় করেছেন। তাদের সবার রশিদ যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। ১০ টাকা লাভে বাজারে ক্রেতাদের কাছে বেগুন বিক্রি হয়েছে।