২১শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
শুক্রবার | দুপুর ১:৫১
উপজেলা চেয়ারম্যান সহ নবনির্বাচিত দুই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১, বিশেষ প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সভাপতি জগলুল হাওলাদার ভুতু সহ তার বড় ছেলে সদ্য নির্বাচিত দিঘীরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ ইসলাম হাওলাদার, ছোট ছেলে কামারখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য নির্বাচিত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান খুকু এবং ভুতুর ছোট ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হাওলাদারের বিরুদ্ধে জখম, চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) টংগিবাড়ী থানায় মামলা দায়েরের তথ্য নিশ্চিত করেছেন টংগিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা সোহেব আলী।

তিনি জানান, বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আমলী আদালত নং-৪ (টংগিবাড়ী থানা) এর আদালতে সি আর মামলা নং- ২৬৭/২০২১ নালিশী দরখাস্তটি এফ আই আর হিসেবে গণ্য করে টংগিবাড়ী থানাকে মামলা হিসেবে গ্রহণ করে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে।

গত ২৮ নভেম্বর টংগিবাড়ী উপজেলার কামারখাড়া ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মহিউদ্দিন হালদারের ছোট ভাই অনিক হালদার এ মামলার বাদী। এই নির্বাচনে ভুতু হাওলাদারের ছোট ছেলে লুৎফর রহমান খুকু মহিউদ্দিন হালদারের নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে আনারস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী অনিক হালদার দিঘীরপাড় বাজারে মেসার্স হাওলাদার বাণিজ্যালয় নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। সেখানে তিনি শুকনা মরিচের আড়ৎদারি করেন৷ নির্বাচনে জেতার পর ভুতু হাওলাদারের ছোট ছেলে লুৎফর রহমান তার ভাই মহিউদ্দিন হালদার, তার পরিবার ও সমর্থকদের উপর নির্যাতন শুরু করেন।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩ দিন পর ২৯ নভেম্বর, সোমবার সকাল ১০ টা’র দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান ভুতু হাওলাদার অনিক হালদারের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। সাথে প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং ২ দিনের মধ্যে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে আল্টিমেটাম দেন।

পরবর্তীতে গত ৩ ডিসেম্বর, শুক্রবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে এজাহারে উল্লেখিত সকল আসামি সহ অজ্ঞাত ১২-১৫ জন বাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালান। এসময় আড়ৎয়ের দুইজন কর্মচারী আহত হন। এসময় ভুতু হাওলাদারের নির্দেশে ও সরাসরি অংশগ্রহণে আড়ৎেয়র ক্যাশ থেকে মরিচ বিক্রির ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা সহ ৭-৮ লাখ টাকার শুকনা মরিচ নিয়ে যান। এসময় স্থানীয়রা বাঁধা দিলে ১ নং আসামী ভুতু হাওলাদার দো-নালা বন্দুক বের করে এবং ২ নং আসামী আরিফ ইসলাম হাওলাদার, ৩ নং আসামী লুৎফর রহমান খুকু পিস্তল বের করে হুমকি দিয়ে আড়ৎ তালাবদ্ধ করে দিয়ে যায় এবং আড়ৎ খুললে বা পাশ্ববর্তী দোকান ভাড়া নিলে তাদের গুলি করে মারার হুমকি দেন।

একইদিন বিকালে উল্লেখিত আসামী সহ আরও ৩০-৩৫ বাজারের পাশ্ববর্তী বাদী অনিক হালদারের পিতা হাজী গিয়াস উদ্দিন হাওলাদারের সাবেক বাড়ি ও আশপাশের ২২ লাখ টাকার সম্পত্তি দখল করেন। এবং আসামীদের দাবিকৃত ৫০ লাখ টাকা না দিলে দখলকৃত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জমি আসামীদের দখলেই থাকবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যান।

মামলার অন্য আসামীরা হলেন, দিঘীরপাড় গ্রামের মজিবর খানের ছেলে আল আমিন খান (৩৫) ও একই এলাকার মৃত রকমত হাওলাদারের ছেলে মনির হাওলাদার ওরফে বাচ্চু হাওলাদার (৪৫)৷ এছাড়াও ১২/১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

টংগিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা সোহেব আলী বলেন, আসামী যেই হোক তদন্ত সাপেক্ষে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

error: দুঃখিত!