অগণিত গ্রাহক ফতুর করে মুন্সিগঞ্জ থেকে উধাও অারডিপি
মুন্সীগঞ্জের চরাঞ্চলের বাংলাবাজার ইউনিয়নের সরদারকান্দি গ্রামের শতাধিক দরদ্রি মানুষের তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে আরডিপি ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এমসিএস লিমিটেড নামে একটি এনজিও। সদরের বাংলাবাজারের কার্যালয়ে তাল ঝুলিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা লাপাত্তা হওয়ায় ১৩৭ গ্রাহক এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
মাঠপর্যায়ের দু’একজন কর্মচারী থাকলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে দুর্ব্যবহারসহ মারধরের হুমকি দিচ্ছে। কোনো উপায় না পেয়ে বুধবার রাতে এনজিও সংস্থার মাঠপর্যায়ের টাকার উত্তোলনকারী হালিমা বেগমসহ জড়িতদের অভিযুক্ত করে সদর থানায় একটি জিডি করেছেন সিমা বেগম নামে এক গ্রাহক। এ ছাড়া বাদী সিমা বেগমের সঙ্গে আরও ১০ থেকে ১২ গ্রাহক তাদের জমা দেওয়া তিন কোটি ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগের বিষয়টি পুলিশকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।
সিমা বেগম জানান, আরডিপি ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এমসিএস লিমিটেড নামে এনজিওর মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা হালিমা বেগমসহ কয়েকজন দ্বিগুণ লাভ দেওয়ার কথা বলে ৫ হাজার, এক হাজার ও ৫০০ টাকা করে মোট ৫টি সঞ্চয় হিসাব খোলেন। তিন বছর মেয়াদি এ সঞ্চয় হিসাব হওয়ায় আড়াই বছরে তিনি ও তার পরিবার প্রায় ৩ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন। এখন দ্বিগুণ লাভ তো দূরের কথা, অনেক কষ্টে জমানো টাকা ফেরত পাওয়া নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ১৩৭ গ্রাহক।
শাখা ম্যানেজার আবদুল্লাহ আল গালিবসহ সবার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। কোথাও তাদের সন্ধানও পাওয়া যাচ্ছে না। অপর গ্রাহক মো. হারুন অর রশীদ জানান, তিনি ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে বর্তমান পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা করে মাসিক জমা দিয়ে এক লাখ ৮৩ হাজার টাকা সঞ্চয় করেছেন। অপর গ্রাহকরা জানান, প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন মো. আবদুল্লাহ আল গালিব নামে এক ব্যক্তি। তার সঙ্গে মাঠপর্যায়ে হালিমা বেগমসহ বেশ কয়েকজন কাজ করে গ্রামের সঞ্চয়ী হিসাবের গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি মাসে টাকা উত্তোলন করেন। বর্তমানে শাখা অফিস ম্যানেজার আবদুল্লাহ আল গালিব, টাকা উত্তোলনকারী হালিমা বেগমসহ অন্যরা শাখা অফিসে তালা ঝুলিয়ে উধাও হয়ে গেছেন। সদর থানার ডিউটি অফিসার এএসআই তানিয়া আক্তার জানান, জিডির তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


