সিরাজদিখানে ১০৪ টি পূজা মন্ডপে পূজার্চনার আয়োজন, প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত শিল্পীরা

মুন্সিগঞ্জ, ১২ অক্টোবর, ২০২০, জাহাঙ্গীর আলম চমক (আমার বিক্রমপুর)

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহোৎসব সামনে রেখে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় কাদামাটি খড়-কাঠ আর প্রতিমা নিয়েই দিন কাটছে কারিগরদের। নিখুঁতভাবে কাজ ফুটিয়ে তুলতেই সর্বোচ্চ মনোযোগ শিল্পীদের।

আগামী ২২ শে অক্টোবর বৃহস্পতিবার মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এ মহোৎসব শুরু হবে। ২৬শে অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে পাঁচদিনের উৎসব।

সোমবার সরেজমিন ঘুরে প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততার চিত্র দেখা গেছে। প্রতিমা শিল্পীদের নিপুণ আঁচড়ে তৈরি হচ্ছে এক একটি প্রতিমা। অতি ভালবাসায় তৈরি করা হচ্ছে দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষী, কার্তিক, গণেশ, অসুর ও শিবের মূর্তি।

কয়েকজন প্রতিমা তৈরির শিল্পীরা জানান, প্রতিমা গড়া শেষ হলে রংতুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হবে অবয়ব। ফুটিয়ে তোলা হবে নাক-চোখ-মুখ। প্রতিমা শিল্পী কেয়াইন ইউনিয়নের গৌরঙ্গ পাল বলেন, প্রতিমা তৈরি করা অনেক কষ্টের। আর আগের মতো লাভ অয় না। তাপরও করতে হয়। আজ থেকেই তৈরি করা দুর্গার প্রতিমা গুলোতে রং লাগিয়ে সু-সজ্জিত করা হবে বলেও জানান তিনি ।

সিরাজদিখান উপজেলার পূঁজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি তপন কুমার দাস জানান, ১৪ টি ইউনিয়নের ১৩ টি ইউনিয়নে ১০৪ টি পূজা মন্ডপে পূজার্চনার আয়োজন করা হয়েছে যা গতবছরের তুলনায় ৮ টি কম । বালুচর ইউনিয়নের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক না থাকায় এখানে কোন পূঁজা মন্ডপ নেই । এ বছর চিত্রকোট ইউনিয়নে ১৯ টি পূঁজামন্ডপ, শেখরনগর ১৪ টি, রাজানগর ৯ টি, কেয়াইন ১৬ টি, বাসাইল ৪ টি, রশুনিয়া ৮ টি , ইছাপুরা ৪ টি জৈনসার ৬ টি,মধ্যপাড়া ৫ টি,লতব্দী ৪ টি, মালখানগর ৯ টি, বয়রাগাদী ৫ টি এবং কোলা ইউনিয়নে ১ টি পুজামন্ডপে দুর্গাৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

উৎসাহ উদ্দীপনা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সনাতন ধর্মালম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গোৎসব নিয়ে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় চলছে সাঁজ-সাঁজ রব। পূজার আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে পুজারী থেকে শুরু করে কর্মব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিমা শিল্পীরা। সব মিলিয়ে প্রতিটি এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে মহা আনন্দের ছোয়া। তবে এক্ষেত্রে সকল আনন্দকে সর্বোত্তম জায়গায় এগিয়ে নিতে সর্বশেষ পরিশ্রমের মূলে রয়েছে প্রতিমা তৈরীর শিল্পীরা। প্রত্যেক শিল্পীর শুধু লক্ষ্য তৈরীকৃত প্রতিমার সৌন্দয্য বৃদ্ধি করে ভক্তদের আনন্দকে সার্থক করে তোলা। তাই শেষ মূহুর্তে প্রস্তুতিতে যেন দম ফেলার ফুরসুত নেই তাদের।

সিরাজদিখান থানার (ওসি) মোহাম্মদ রিজাউল হক বলেন, ‘এবার যেকোন দূর্ঘটনা প্রতিহত করতে প্রতিমা তৈরী থেকে শুরু করে দেবী বিসর্জন পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবী টিমসহ প্রশাসনিক নজরদারি সার্বক্ষণিক থাকবে । প্রতিটি পূজামন্ডপের সভাপতি সাধারন সম্পাদকদের সাথে আমার কথা হয়েছে। প্রতিটি পূজামন্ডবের জন্য টহল পুলিশ এবং ১০ টি পূজামন্ডপের জন্য ১ টি করে মোবাইল টিম থাকবে । সার্বক্ষণিক টহল পুলিশ এবং ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে।’

আপনার মন্তব্য জানান...

error: দুঃখিত!