সরেজমিন: মুন্সিগঞ্জ বাজারে রমজানের উত্তাপ

মুন্সিগঞ্জ, ৭ এপ্রিল, ২০২১, নাজমুল আহমেদ শাওন (আমার বিক্রমপুর)

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে নিত্যপণ্য কিনতে মুন্সিগঞ্জ বাজারে ক্রেতাদের বাড়তি ভিড় শুরু হয়েছে। এদিকে রমজান যত সামনে আসছে নিত্যপণ্যের দাম ততই বাড়ছে।

আজ বুধবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে মুন্সিগঞ্জ শহরের প্রধান বাজারে সরেজমিন ঘুড়ে দেখা যায় এমন চিত্র।

রমজান এলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে একসাথে একটু বেশি পরিমাণে নিত্যপণ্য কেনার প্রবণতা দেখা যায়। ছবি: আমার বিক্রমপুর।

রমজান এলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে একসাথে একটু বেশি পরিমাণে নিত্যপণ্য কেনার প্রবণতা দেখা যায়। তবে এবার করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গত ৫ই এপ্রিল থেকে লকডাউন  ঘোষণা করেছে সরকার। বলা হয়েছে জনগণকে ঘরে থাকতে।

এরই মধ্যে বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। অন্য বছরের তুলনায় এবছর রমজানের আগে মুন্সিগঞ্জের কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের ভিড় কিছুটা কম হলেও গত কয়েকদিনের তুলনায় আজ বেশ ভিড় বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন দোকানদাররা।

মুন্সিগঞ্জ বাজার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রমজানের নিত্যপণ্য বিশেষ করে ইফতার সামগ্রী বেশি পরিমাণে কিনছেন সাধারণ মানুষ। তাই বাড়তি চাহিদা থাকায় বেশ বেড়েছে ইফতার সামগ্রীসহ মুরগি ও সবজির দাম।

প্রতি হালি লেবুর দাম উঠেছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে সব ধরনের ডালের দাম। ডিম ও গরুর মাংস আগের দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে। ডিমের হালি ৩০ ও গরুর মাংস কেজিতে ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে আজ।

গরুর মাংস কেজিতে ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে আজ মুন্সিগঞ্জ বাজারে। ছবি: আমার বিক্রমপুর।

আগামী বুধবার থেকে রোজা শুরু তাই পরিবারের জন্য মুক্তারপুর থেকে বাজার করতে এসেছেন সরকারি হরগঙ্গা কলেজের ছাত্র শীতল।

বেশি করে পণ্য কেনার কারন জানতে চাইলে তিনি ‘আমার বিক্রমপুর’ কে বলেন, ‘গতবছর ধরে করোনা আতঙ্কে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এখন আবার বন্ধ হয়েছে অফিস আদালত সহ শপিং মল। করোনা বেড়ে যাওয়ায় বাহিরে বের হওয়া যাচ্ছে না। তারই মধ্যে কিছুদিন পর রোজা। এছাড়া লকডাউন পরিস্থিতিতে রোজা রাখা অবস্থায় বারবার বাজারে আসা সম্ভব নয়। তাই যেসব পণ্য পচনশীল নয় সেসব পণ্য একটু বেশি করে কিনে রাখছি।’

বিভিন্ন মুদিদোকানদারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত সপ্তাহের তুললায় এ সপ্তাহে দাম বেড়েছে কিছুটা। পেয়াজ কেজিতে ৩৫ টাকা, রসুন ৭০ টাকা, আদা ১১০ টাকা, মসুর ডাল ১০০ টাকা, ছোলা বুট ৬৫ টাকা, বেসন ৮০ টাকা, চিনি ৭০ টাকা, সয়াবিন তেল (খোলা) ১৩০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে যা আগের সপ্তাহের বাজারের তুলনায় ৫ থেকে ১০ টাকা বেশী।

পণ্যের দাম বাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নিশা স্টোরের প্রোপাইটর মোঃ আলেক চান জানান, ‘লকডাউনে পাইকারীর গাড়ি আসতে না পারায় বেড়েছে এসব দ্রব্যমূল্যের দাম।’

সবজির বাজার বরাবর স্থবির। শসা ৪০, কাচা মরিচ ৫০, বেগুন ৫০ ও টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ১০ টাকা কেজিতে।

মুন্সিগঞ্জ বাজারে বেড়েছে ব্রয়লার ও দেশি মুরগির দাম। ছবি: আমার বিক্রমপুর

এদিকে সবজির পাশাপাশি বেড়েছে ব্রয়লার ও দেশি মুরগির দাম। গত সপ্তাহে ১২০-১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে হয়েছে ১৪০-১৫০ টাকা। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৫০ টাকা কেজিতে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৫০-৪০০ টাকা। কর্ক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা কেজি যা গত সপ্তাহে ছিলো ২০০ টাকা।

রমজানকে কেন্দ্র করে মুন্সিগঞ্জের ফলের বাজার আরো চড়া। ছবি: আমার বিক্রমপুর।

ফলের বাজার আরো চড়া। আপেলের দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ২০ টাকা। কয়েকদিন আগে ছিলো ১৬০ টাকা কেজি। আজ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। কালোজাম ৩৫০, মালটা প্রতি কেজি ১৮০। তরমুজ বড় সাইজের ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা। অরিজিনাল জাম্বু খেজুর ১৫০০ টাকা কেজি। মরিয়ম ৯০০, দাবাস ১২০০, নরমাল প্যাকেটজাত ২০০ ও খোলা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়।

রমজানের আগে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ও রমজানে নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক আসিফ আল আজাদ ‘আমার বিক্রমপুর’ কে বলেন, আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম যাতে জনগণের হাতের নাগালেই থাকে সেলক্ষ্যে তৎপর রয়েছি। লকডাউনের কারণে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা থেকে পাইকাররা ঠিক দামে কিনলেও পরিবহন খরচের জন্য মুন্সিগঞ্জে বেশি দাম দিয়ে পণ্য কিনতে হয়। তবে, খুব শীঘ্রই এ সমস্যার সমাধান হবে।

আপনার মন্তব্য জানান...

error: দুঃখিত!