মুন্সিগঞ্জে ১৬১৫ কোটি টাকা ব্যায়ে কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) পুরনো ঢাকার রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম মুন্সিগঞ্জে পরিবেশবান্ধব স্থানে সরিয়ে নিতে ১,৬১৫.৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মুন্সিগঞ্জ বিসিক কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে।

একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বৈঠকে অনুমিত ১০,১১৫.৭৭ কোটি ব্যয়ে সাতটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৪,৪০৫.৭৮ কোটি টাকা জোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার, ৪৮৯.৫০ কোটি টাকা আসবে সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ৫,২২০.৪৯ কোটি টাকা দেবে প্রকল্পসহায়ক সংস্থা। সাতটি প্রকল্পের মধ্যে তিনটি নতুন প্রকল্প, অপর চারটি সংশোধিত প্রকল্প।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি পুরনো ঢাকার চুড়িহাট্টায় অগ্নি দুর্ঘটনার পরে মুন্সিগঞ্জ বিসিক কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক প্রকল্প সংশোধন করা হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ২০২২ সালের জুন নাগাদ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। তিনি বলেন, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য পুরনো ঢাকা থেকে রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম মুন্সিগঞ্জে কম জনবসতি ও পরিবেশবান্ধব স্থানে সরিয়ে নেয়া। এ লক্ষ্যে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে প্রায় ৩১০ একর জায়গা নিয়ে কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপন করা হবে। প্রকল্পে প্রায় ২,১৫৪টি শিল্পপার্ক থাকবে। এখানে প্রায় ৫০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের অধীনে শিল্পপার্কে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন জানায়, পুরনো ঢাকায় প্রায় চার হাজার রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম রয়েছে। দাহ্য এসব রাসায়নিক পদার্থ ওই এলাকার লোকদের জন্য মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করেছে। ২০১০ সালের ৩ জুন পুরনো ঢাকার নিমতলীতে অগ্নিকাণ্ড এবং গত ২০ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। বৈঠকে ৭৯.৪২ কোটি টাকায় অস্থায়ী রাসায়নিক মজুদের জন্য গুদাম নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প করপোরেশন (বিসিআইসি) ২০২০ সালের জুন নাগাদ কদমতলীর শ্যামপুরে অস্থায়ী রাসায়নিক মজুদের জন্য গুদাম নির্মাণ করবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বৈঠকে অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্প হচ্ছে ৩৯৭১.২৯ কোটি টাকায় সিদ্ধিরগঞ্জ ৩৩৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প (৩য় সংশোধিত), ১৭৪৭.৮৮ কোটি টাকায় দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ প্রকল্প (৩য় সংশোধিত) এবং ১৪৭.৫৬ কোটি টাকায় নীলফামারী জেলায় চোরালকাটা নদী ও বুড়ীতিস্তা নদীকেন্দ্রিক প্রকল্প।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুদ, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো: শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সভায় অংশগ্রহণ করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, এসডিজির মুখ্য সমন্বয়ক, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: দুঃখিত!