মুন্সিগঞ্জে শিক্ষার্থীকে বেঁধে নির্যাতন করলো ইউপি সদস্য

মুন্সিগঞ্জ, ২৬ অক্টোবর, ২০২০, গজারিয়া প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ডাকাত অপবাদ দিয়ে তামিম হোসেন নামের এক দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর উপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।

নির্যাতনের শিকার তামিম হোসেন বাউশিয়া এম এ আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সে উপজেলার বাউশয়া ইউনিয়নের চরবাউশিয়া বড়কান্দি গ্রামের আলম বেপারীর ছেলে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, তামিমের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার একটি পায়ে আঘাতও রয়েছে।

শনিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের চরবাউশিয়া ফরাজী কান্দি এলাকায় এ ঘটে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুরুতর আহত তামিম হোসেন জানান, বাউশিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য মামুন মেম্বার এবং তার স্ত্রী মিতু বেগমসহ আরো কয়েকজন মিলে আমাকে ৫ তলা ভবনের ছাদের উপর বেধে মারপিট করেছে।

মামুন মেম্বারের শালিকা মেহরিন এর সাথে আমার সাথে দুই বছর যাবত প্রেম সম্পর্ক চলে আসছে। শনিবার মামুন মেম্বারের স্ত্রীর মোবাইল থেকে মেহরিন এর নামে একাধিক ম্যসেজ দিয়ে আমাকে মামুন মেম্বার এর বাড়ি যেতে বলে।

আমি মেহরিনের সাথে দেখা করতে মামুন মেম্বারের বাড়ির নিচতলায় অপেক্ষারত অবস্থায় দুইজন যুবক আমাকে দেখে আটকে ফেলে। তখন মেম্বার ও তার স্ত্রীসহ কয়েকজন যুবক আমাকে ছাদের উপর নিয়ে বেঁধে ফেলে। মেম্বার এবং তার স্ত্রী আমাকে মারপিট করে বাইরে অজ্ঞান করে ফেলে রাখে। পরে জানতে পারি মামুন মেম্বারের শশুর আমাকে মেডিকেলে ভর্তি করেছেন।

নির্যাতনের শিকার তামিম হোসেন আরো জানান, মামুন মেম্বারের স্ত্রীর মোবাইল এবং আমার মোবাইল তদন্ত করলে সঠিক ঘটনা বেরিয়ে আসবে । আমাকে তারা ডাকাত বলে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বেধড়ক মারধর করে বস্তায় টুকরা টুকরা করে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয়।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মামুন ও তার স্ত্রী মিতু বেগম শিক্ষার্থী তামিমের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ অসত্য বলে তারা জানান, শনিবার রাত আনুমানিক রাত এগারোটায় টার সময় তার ভাতিজা সবুজ ও আলম চিৎকার করে বলছে, চাচা আপনার বাড়িতে ডাকাত ঢুকেছে। আমি বাড়ির গেট খুলে দেয়ায় অনেক লোক পাঁচতলার ওপরে উঠেছে এবং ছাদের ওপরে ছেলে তামিম হোসেনের সাথে থাকা দুইটি রামদাসহ তাকে ছাদে নিয়ে তারা মারধর করেছে। তার স্ত্রী মিতু বেগমের মোবাইল থেকে মেসেজ যাওয়ার ঘটনাটি অস্বীকার করেন তারা।

এ প্রসঙ্গে গজারিয়া থানার ওসি মামুনুর রশিদ জানান, উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মামলা রজু করা হয় নাই, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান প্রধান বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব নিয়েছেন।

আপনার মন্তব্য জানান...

error: দুঃখিত!