মুন্সিগঞ্জে গণধর্ষণে ৬ মাসের গর্ভবতী কিশোরী

মুন্সিগঞ্জ, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, বিশেষ প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার উত্তর পাইকপাড়া গ্রামে গণধর্ষণের শিকার হয়ে ৬ মাসের গর্ভবতী হয়ে পড়েছে এক কিশোরী (১৩)। ধর্ষণের শিকার হয়েও বিচাঁর না পেয়ে উল্টো এলাকা ছাড়তে হুমকি দেয়া হচ্ছে তার পরিবারকে।

গতকাল শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সাংবাদিকদের দেখে বুকফাটা চিৎকারে লুটিয়ে পরেন ধর্ষণের শিকার কিশোরীর পিতা।

তিনি জানান, ধর্ষক পরিবারের হুমকির কারনে তিনি বাড়ি ছাড়া রয়েছেন।

জানা গেছে, গণধর্ষণের শিকার কিশোরীর মা মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় অনেক আগেই পরিবারকে ছেড়ে চলে যান তিনি। ঐ কিশোরী তার বাবার সাথে উপজেলার উত্তর পাইকপাড়া গ্রামে বসবাস করতেন। কিশোরীর বাবা দিনমজুর-ভবঘুরে প্রকৃতির লোক হওয়ায় প্রতিবেশী চাচী রুনা বেগম তাকে দেখে শুনে রাখতেন।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ঐ কিশোরীকে প্রায় ৬ মাস আগে একই এলাকার হাসান মিয়ার ছেলে হাবিবুর (১৫) ও আফসার চৌধুরীর ছেলে সানি (১৮) স্থানীয় পালের বাড়ি নামক পরিত্যক্ত একটি জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করে। সে সময় ওই এলাকার লোকজন বিষয়টি দেখে ফেললে তাদের চর থাপ্পর মেরে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়।

গণধর্ষণের শিকার কিশোরী জানান, ৬ মাস আগে একদিন সন্ধায় আমাদের প্রতিবেশী  বাবুল মিয়ার ছেলে ফাহিম আমার চাচি রুনু বেগম আমাকে ডাকছে বলে আমাকে আমাদের বাড়ির পাশে পালের বাড়িতে নিয়ে যায়। আমি সেখানে গিয়ে দেখি, আমাদের এলাকার সামি দাড়িয়ে আছে। পরে সামি আমাকে জোর করে ধর্ষণ করে। এসময় আমাদের অপর প্রতিবেশী হাবিবুর আসে। সানির পরে হাবিবুরও আমাকে ধর্ষণ করে। সে সময় আমার চিৎকারে এলাকার লোকজন চলে আসলে আমি তাদের জানাই, এলাকার লোকজন ওদের চর থাপ্পর দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

কিশোরী আরো জানায়, পরে আমি হাবিবুর এর মা’কে এ ব্যাপারে জানালে সে বলে তুমি এগুলো আর কাউকে বলোনা।  কাউকে বললে তোমার বাবাকে মেরে এলাকা হতে তাড়িয়ে দেওয়া হবে।

কিশোরীর পিতা জানান,  কিছু দিন আগে আমার মেয়ে তার নানী বাড়িতে বেড়াতে গেলে তার নানী আমার মেয়ের লক্ষণ দেখে বুঝতে পেরে ওকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ও ওর নানিকে সব খুলে বলে। পরে আমি ২০ দিন আগে ওকে মেডিকেল চেকআপ করলে ডাক্তার জানায় ওর পেটে ৬ মাসের বাচ্চা আছে। আমি মেয়েকে ১৮/২০ দিন আগে টংগিবাড়ী হাসপাতালে নিয়ে এক নার্সের অধীনে রেখে এসেছি।

সে আরো জানায়, ধর্ষক হাবিবুর এর পিতা হাসান আমাকে হুমকি দিচ্ছে। হাসান বলে সানির মামারা অস্ত্র ব্যবসা করে তুমি এটা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোমার ভালো হবে না। তুমি এলাকা হতে চলে যাও। আমি ভয়ে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেরাচ্ছি।

এলাকার কয়েকজন যুবক বলেন, আমাদের এলাকার মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে গরিব বলে দীর্ঘদিন যাবৎ বিচার পাচ্ছেনা। আমরা বিষয়টি এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার, ও আমাদের মসজিদের সভাপতি মঞ্জুর মিয়াসহ স্থানীয় লোকজনকে জানিয়েছি। তারা গত শুক্রবারের মধ্যে এর মিমাংশা করে দিবে বলে আমাদের আশ্বাস দিয়ে পরে সানির মামা মঞ্জিল বলছে ডিএনএ টেষ্ট করে নিয়ে এসো।

এ ব্যাপারে আবদুল্লাহ্পুর ইউপি চেয়ারম্যান আ. রহিম জানান, আমার কাছে কয়েকজন যুবক আসছিলো। আমি ওদের আইনগত ব্যাবস্থা নিতে বলেছি।

এ ব্যাপারে টংগিবাড়ী থানার ওসি হারুন অর রশিদ জানান, একটি অভিযোগ পেয়েছি। দোষীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য জানান...

error: দুঃখিত!