বিজয় দিবসে পদ্মার পাড়ে সেতু দেখতে মানুষের ঢল

মুন্সিগঞ্জ, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০, বিশেষ প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

বিজয়ের মাসে পদ্মা সেতুর পুরো অংশ দৃশ্যমান হয়েছে গত ১০ডিসেম্বর। দৃশ্যমান স্বপ্নের  সেতুকে কাছ থেকে একপলক দেখতে ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে মুন্সিগঞ্জের পদ্মা তীরে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল উপচেপড়া।

দূর-দুরান্ত থেকে এদিন  নানা বয়সী শ্রেনী-পেশার মানুষের আগমনে মাওয়া পদ্মা তীর পরিণত হয় মিলন মেলায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, দমকা হাওয়ার দাপটে একের পর এক ঢেউ আছরে পরছে তীরে। কিছুটা দূরেই সারি সারি ৪১টি স্প্যান। নদী তীরে অগনিত মানুষ।

কেউ এসেছে সপরিবারে, কেউবা বন্ধুর দলে। বিজয় দিবসের আনন্দে প্রমত্তা পদ্মা বুকে  ৪২পিয়ারে ৪১স্প্যানের স্বপ্ন বাস্তবতার  নয়নাভিরাম দৃশ্য অবলোককে। মুগ্ধ দর্শনার্থীদের কেউ মগ্ন সেলফিতে, কেউ দূর থেকে কৌতুহলী দৃষ্টিতে দেখছে স্বপ্ন বাস্তবতার মেলবন্ধন।  সেতুর সাথে একই ফ্রেমে নিজেকে আবদ্ধ করতে ব্যস্ত আবার অনেকে।

ট্রলার নৌকা যোগে আরেকটু কাছ থেকে ঘুরে আসছে কেউ কেউ। পদ্মার বুক চিরে দাড়িয়ে থাকা এ যেন শুধু একটি স্টীল কংক্রিটের সেতু নয়। এ স্থাপনা কোটি বাঙালির গর্ব, বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতীক।

নিজেদের অর্থে নির্মিত দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো নয়ন জুড়ানো এ সেতু দেখে উচ্ছ্বাসিত দর্শনার্থীরা।

রওনক ইসলাম নামে এক ছাত্র বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় দেখিনি। তবে  ২০২০ সাল পদ্মা সেতুর মাধ্যমে পদ্মা জয় দেখলাম।  ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার বাইসাইকেল চালিয়ে আজ পদ্মা সেতু দেখতে এসেছি বন্ধুরা সবাই মিলে।

বাবা-মায়ের সাথে ঘুরে আসা হাসফা ইসলাম নামের এক শিশু দর্শনার্থী জানান, বাবা-মার সাথে ঘুরতে এসেছেন অনেক ভালো লাগছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেখছি আগে টিভিতে দেখেছিলাম এখন সামনে থেকে দেখলাম।

সাইদুর রহমান নামের একজন জানান, নিজেদের টাকায় নির্মিত এই সেতু বাংলাদেশের গর্ব এই সেতু দেখে আমরা সবাই আনন্দিত। অনেক মানুষ এসেছে। এবারের বিজয় দিবসে অন্য কোথাও ঘুরতে না গিয়ে তাই পদ্মা সেতু দেখতে এসেছি।

স্পর্শিয়া জাহান নামের এক দর্শনার্থী জানান, পদ্মা সেতু দেখতে পেয়ে খুব ভালো লাগছে খুব দ্রুত যেন এর সেতু দিয়ে আমরা খেতে পারি এটাই এখন আশা।

দিনভর এমন চিত্রে পদ্মা তীর হয়ে উঠেছিলো উৎসব আঙিনা। যে উৎসব মহান বিজয় দিবসের উৎসব। পদ্মা জয়ের উৎসব।

আপনার মন্তব্য জানান...

error: দুঃখিত!