বিক্রমপুরের নৌকা বাইচের পূর্ব ইতিহাস

মুন্সিগঞ্জ, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, আব্দুর রশিদ খান (আমার বিক্রমপুর)

নৌকা বাইচের পূর্ব ইতিহাস

৮০ বছর আগে আমাদের বিক্রমপুর এলাকায় নৌকা বাইচের বড় দুটি আড়ং বা বাইচখোলা ছিল বলে প্রবীণদের নিকট থেকে জানা গেছে। একটি ছিল মাইজপাড়া জমিদার বাড়ির উত্তর ধারে অপরটি ছিল নাগরনন্দির আড়িয়ল বিলের সংযোগস্থলে।

বহুকাল জমিদারদের নিয়ন্ত্রিত এ দুটিস্থান বাইচ খেলার জন্য বিখ্যাত ছিল। বালাসুরের পালেদের ১টি ছিপও কোষা নৌকা ছিল ভাগ্যকুলের মাছের কারবারি মালোদের ছিল লক্ষ্মীনারায়ণ নামে আরেকটি ছিপ নৌকা, গুণিন্দ্র মালো ও পঞ্চানন্দ মালো এটি পরিচালনা করতেন। গোপীনাথ দাস ও নবদ্বীপ দাসের আলাদা একটি খড়কি ছিল। পালেদের ৩৬ হাত লম্বা প্রথম কোষা নৌকাটি ২ বন্ধু সমষপুরের সুবা মিয়া ও কোলাপাড়ার গিয়াসউদ্দিন আহমেদের ‘নওরোজ’ নামক কোষার কাছে হেরে গেলে পরদিনই এটি ভেঙ্গে ৫২ হাত নতুন কোষা বানানোর কাজে নেমে পড়েন। সুবা মিয়ার ২য় ছেলে নওরোজের নামে কোষাটি বানানো হয়েছিল। সুবা মিয়ার বন্ধু চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন আহমেদের তত্বাবধানে এটি বাইচ খেলায় অংশগ্রহন করতো। কোন এক ১৪ আগস্ট বুড়িগঙ্গায় বাইচ খেলতে গিয়ে কোষাটির সলিল সমাধি হয়, ওটি আর খুঁজে পাওয়া যায় নি।

আমাদের সময়কালে পালেদের কোষা জলবিন্দু বা লাল কোষা, লক্ষ্মীনারায়ণের ছিপ ও মাইজপাড়ার টলটল ঠাকুরের খড়কির খুবই সুনাম ছিল। ৫২ হাত লালকোষা কোলাপাড়ার একই সমান নওরোজ কে বার বার পরাজিত করে নাম করে ফেলে, এরপর থেকে নওরোজের একক আধিপত্য কমে যায়। ৭০ বছর আগে মাইজপাড়া আড়ং এ লক্ষ্মীনারায়ণের খড়কির আগায় লেগে একটি কেড়াই নৌকার মাঝির মৃত্যু ঘটেছে, তার পেটফুরে একপাশে ঢুকে অন্যপাশ দিয়ে গলুই বেড়িয়ে পড়েছিল, এ অবস্থায় চালিয়ে অনেকদূর যাওয়ার পর সামনে বসা মাল্লা পা দিয়ে ঠেলে মৃতদেহ বিলে ফেলে দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল এ নিয়ে অনেক দিন মামলাও চলেছিল। পরবর্তীতে খড়কির সামনের গলুই কেটে খাটো করা হয়েছিল। এ ঘটনার পর হতে জমিদার বাবুদের নিয়ন্ত্রিত মাইজপাড়া ও নাগরনন্দির বাইচের আড়ং দুটো বন্ধ হয়ে যায়।

খ্যতির শীর্ষে বিক্রমপুরের তিন বাইচের নৌকা

বিক্রমপুরে অতিতে বর্ষাকালে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা খুবই জনপ্রিয় ও আনন্দদায়ক ছিলো। আগস্ট মাস এলেই বাইচ খেলা এবং তা দেখার হিড়িক পরে যেত।

এদিকে কোলাপাড়া বাজার কেন্দ্রিক বাইচের আয়োজনটাই ছিল বড়। অপরদিকে আড়িয়ল বিলের উত্তরে ভাঙ্গাভিটা, নবাবগঞ্জ, দোহার, আগলা গালিমপুর, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে বাইচ প্রতিযোগীতা হত। আমাদের এলাকার মাইজ পাড়ার টলটল ঠাকুরের খড়কি, ভাগ্যকূল- বালাসুরের লক্ষ্মী নারায়ণের ছিপ, ঈশ্বরপালের লালকোষার কথা ভুলবার নয়, কোষার রঙ, বৈঠার রঙ ও মাঝি মাল্লাদের গেঞ্জি ও লুঙ্গী সব টগবগে লাল বিধায় এটির নাম হয়ে যায় ‘লালকোষা’। ১৯৬৬ সালে ঈশ্বর পালের কোষাটি তৈরির পর পানিতে নামিয়েই নিয়ে যাওয়া হয় রাড়িখালের শিক্ষাগুরু বিষ্ণুপদ সেনের বাড়ির ঘাটে, ঈশ্বরপাল তাঁকে প্রণাম জানিয়ে কোষাটির জন্য একটি সুন্দর নাম চান, বাবু বিষ্ণুপদসেন নাম দিলেন- “জলবিন্দু”। এ তিনটি বাইচের নৌকা পুরস্কার জয়ের মাধ্যমে বিক্রমপুরকে বিভিন্ন স্থানে সন্মাণ ও ব্যপক পরিচিতি এনে দিয়েছিল। বাইচ খেলতে গিয়ে দূর্ঘটনায় পড়ে লালকোষা বুড়িগঙ্গা নদীতে এক বছর ডুবে ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানলাম, টলটল ঠাকুরের খড়কিটি কিছু দিন আগে লাকড়ি বানিয়ে বিক্রি করা হয়েছে, ও পথে হাঁটতে গেলে টলটল ঠাকুরের পুকুরে নৌকাটি অনেকদিন ডুবানো দেখতাম। এখন একটি মাত্র হাল ধরার বৈঠা ও কাঁসি অবশিষ্ট আছে, তাঁর ছেলে কমল ঠাকুরের মাইজপাড়া বাজারে দোকান আছে। লক্ষ্মী নারায়ণের ছিপ ও ঈশ্বরপালের লালকোষা ভেঙ্গে একাধিক ছোট নৌকা বানানো হয়েছিল। এই নৌকাগুলো বা তার অংশ বিশেষ সংগ্রহ করে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বালাসুরের যদুবাবুর বাড়ির ‘বিক্রমপুর জাদুঘরে’ রাখা যেতে পারে ।

টলটল ঠাকুরের বাইচের নৌকা স্মৃতির মাইল ফলক

এলাকার বহু মানুষের বর্ষাকালীন বিনোদনের মাধ্যম টলটল ঠাকুরের এ বাইচের নৌকাটি প্রায় ২৫ বছর সচল ছিল। মাইজপাড়া গ্রামের নকুলেশ্বর চক্রবর্তী ওরফে টলটল ঠাকুর ১৯৫৭ সালে এ খড়কি নির্মাণ করেছিলেন। তিনি খুব একটা আর্থিক ভাবে স্বছল ছিলেন না, শ্রীনগর বাজার ইজারা ও ঘর কেনাবেচার ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। কিন্তু শখের কাছে সব তুচ্ছ করে তিনি এককভাবে ৬২ হাত লম্বা এ খড়কিটি তৈরী করে ফেলেন। সবাই তাঁকে চিনল, জানল এটিই ছিল তার বড় প্রাপ্তি। পেছনে ধুতি পাঞ্জাবী পরে তিনিই নৌকার হাল ধরে থাকতেন। ২০ হাত লম্বা হালের বৈঠা ও কাঁসিটিই এখন অবশিষ্ট আছে। উঁই পোকায় খাওয়া বৈঠাটি উঠানে আম গাছের সাথে উল্টো করে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে। যত্নে রেখে দেওয়া তামার কাঁসিটি আমাকে বৌদি বের করে দেখালেন, আমিও হাতে নিয়ে আপ্লুত, ইচ্ছেমত কয়েকটি কাঁসির পিটুনিও দিলাম। কত শত মানুষ এ কাঁসির শব্দ শুনে ঘর থেকে বেড়িয়ে এসেছিল ‘খড়কি’ দেখার জন্য।

ভাগ্যকূলের লক্ষ্মী নারায়ণের ঘাসি বা ছিপ ও টলটল ঠাকুরের খড়কির বাইচ দেখার জন্য মানুষ উন্মূখ হয়ে অপেক্ষা করত। নৌকাটি দীর্ঘ সময় ডুবে থাকার কারণে পচন ধরে গেলে টুকরোগুলো কয়েক বছর আগে তুলে লাকড়ি হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে। টলটল ঠাকুর ১৯৭৪ সালে প্রয়াত হয়েছেন, তাঁর ২ ছেলে গোপাল চক্রবর্তী ও কমল চক্রবর্তী ৩ মেয়ে প্রতিমা, আনিমা ও লিলি ছিল। কমল বাবুর মাইজপাড়া বাজারে ব্যবসা আছে। গোপাল আমার বড়ভাই কাইয়ুম খান এবং আনিমা বোন হালিমার সাথে পড়ত। প্রতিমা কয়েক বছর হল মারা গেছে।

অতিথি বাইচের নৌকা

বেশকিছু বিশেষ ধরণের বাইচের নৌকা দূরদুরান্ত থেকে আসত। বিশেষ বাদ্য ও বড় বড় ঢোল পিটাত, অনেকে নেচে নেচে কাঁসি পিটাত, দুপ্ দুপ্ শব্দ অনেক দূর থেকে কানে ভেসে আসত। নৌকার বিদঘুটে কালো রঙ ও বড় গলুই দেখে আদিম আদিম ভাব মনে হত। গলুইতে মালিকের নাম ঠিকানাসহ নানা রকম লেখা দেখতাম। নৌকাগুলোতে নিজেদের পতাকাও থাকত।

আমাদের বাড়ির বাইচের নৌকা ও নিকটবর্তী অন্যান্য নৌকা

আমাদের যৌথ পরিবারে একটি বাইচের কোষা নৌকা ছিল- নাম ছিল ‘রকেট’। নামটি দিয়েছিলেন উত্তর কোলাপাড়ার আব্দুল খালেক মাস্টার, তিনি আরমানিটোলা হাইস্কুলের শিক্ষক ছিলেন। কাকা মোফাজ্জল হোসেন খান তাঁর মেঝো ভাই ছামাদ খানের ঘরের শালকাঠের পাটাতন খুলে ১৯৬২ সালে কোষা নৌকাটি বানিয়েছিলেন। কয়েকবছর পরে একটু বড় করে পুনরায় বানানো হয়। ১৪ আগস্টসহ পুরো বর্ষাকালব্যপি বিক্রমপুরে নৌকা বাইচই ছিল জনপ্রিয় ইভেন্ট । বাইচ দেখার জন্য প্রচুর লোক সমাগম হতো, ঢেউয়ের তোড়ে পাশাপাশি নৌকার ধাক্কায় অনেক সময় নৌকা ডুবিসহ প্রাণহানীও ঘটতো।

এদিকে কোলাপাড়া বাজার এবং আড়িয়ল বিলের উত্তরে ভাঙ্গাভিটাতে আয়োজনটা সবচে বড় হত। কাঁসির আওয়াজ শুনে এক নজর দেখার জন্য গ্রামের মানুষজন ঘর ছেড়ে হুড়মুড় করে বেড়িয়ে আসত। আমাদের চাচাত ভাই লিটন খান ও হাজী বাড়ির কালাম খুব সুন্দর কাঁসি পিটাতে পারত। কয়কীর্তনের সহপাঠী বীরেন ও তাঁর ভাই নির্মল বায়না ধরল, আমাদের কোষায় করে ওর বড় ভাই হাডুডু খেলোয়াড় বিমলদার শ্বশুরবাড়ি যাবে, আমরা দেওয়ান আলী আহম্মদসহ ‘৭২ সালের বর্ষাকালে লঞ্চের সাথে পাল্লা দিয়ে আনন্দ সহকারে বাড়ৈখালীর কাছে শ্রীধরপুর গ্রামে বিমলদার শ্বশুর ধনাঢ্য কচিবাবুর বাড়ি উঠলাম। আমাদেরকে অনেক আপ্যায়ন করিয়ে রাতে থাকার ব্যবস্থাও করলেন।

এর আগে ‘৬৯ সালে আমার বড় ভাই কাইয়ুম খানের বিয়ের পাত্রী দেখার জন্য দলবেঁধে পদ্মায় ভেঙে যাওয়া গ্রাম শিমুলিয়া গিয়েছিলাম,পাত্রীর মামা বাড়ির পাশ দিয়ে যাবার সময় পাত্রীকে দেখেও ফেললাম,পরে বড় ভাইয়ের হবু শ্বশুর বাড়িতে বিরতি দিলে তাঁরা তাৎক্ষনিক সেমাই রান্না করে সবাইকে খাওয়ালেন। আমাদের দলে সালাম, হাতেম কাকা, আনুদা, মজিদ, দামলার মরহুম মুক্তিযোদ্ধা সাহাদত হোসেন জান্টু, কালাম, লিটন, ভাই মনিরআলমসহ অনেকেই ছিল। আনন্দের সেই স্মৃতি ভুলবার নহে।

বর্ষাকাল এলেই কোষাটির রঙ লাগানোর কাজ আমিই করতাম, বাইচের তারিখ পড়লে ২/১ দিন আগে নিচে ৪/৫ টি কলাগাছ দিয়ে টেনে উপড়ে তুলে মাইট্যা তেল লাগাতাম, তলা আরও পিচ্ছিল করার জন্য চালতা ছেঁচে লাগাতাম। বাইচের জন্য লোকের অভাব হত না, তবে আমরা শক্ত সামর্থ্য লোক তালিকা করে উঠাতাম। আমাদের কোষার সাথে সেলামতির কোষার লড়াইটা জমত ভাল। বাইচের পর ঘাটে বাঁধা কোষাটি ২/১ দিন পানি উঠে অর্ধ নিমজ্জিত অবস্থায় থাকত। কারন ঝাঁকুনি খেয়ে জোড়াগুলো আলগা হয়ে যেত। এলাকায় আমাদের কোষাটিকে মোকাজ্জল খাঁর কোষা অথবা মোবারক খাঁর কোষা বলেই চিনত। পরে কাছাকাছি মাইজপাড়ার আমার স্কুল বন্ধু নুরুল ইসলাম ‘অগ্রদূত’ নামে ৬৫ হাত কোষা বানিয়েছিলেন, আমিই মাইজপাড়া বাজারে গিয়ে আর্ট করে নাম লিখে দিয়ে এসেছিলাম।

সেলামতি এক্সপ্রেস, মত্তগ্রাম এক্সপ্রেস দীর্ঘদিন যাবত সচল আছে। রাড়িখালের সোলাইমান খান ৭২ হাত লম্বা পর পর দু’টি কোষা নৌকা বানিয়েছিলেন, সোলাইমানের রাড়িখাল এক্সপ্রেস-২ নামে একটি কোষা এখনো সচল আছে। ওদের বাড়ি আড়িয়াল বিল ঘেঁষা বিধায় ওখান থেকে অল্প পানিতেও বিভিন্ন স্থানে যাওয়া যায়। মোঃ সোলাইমান খানই আমাদের এলাকায় অতিত দিনের নৌকা বাইচের ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছেন। তিনি উত্তর রাড়িখালের লক্ষীমুন্সী বাড়ির সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুস ছাত্তার খানের ভাতিজা। ৭২ হাত লম্বা কোষা নৌকাটি বাইচ খেলার জন্য লাল রঙ করে (অনেকটা ঈশ্বরপালের কোষার মতো) কয়েক বছর হল পানিতে নামিয়েছেন। ইতিমধ্যে রাড়িখাল এক্সপ্রেস-২ নবাবগঞ্জ ও বুড়িগঙ্গা নদীতে বাইচ খেলায় অংশগ্রহন করে এসেছে, এবং নিয়মিত বাইচ খেলায় অংশগ্রহন করছে। নিকটবর্তী সেলামতি, মত্তগ্রাম, রাড়িখালের নৌকা বাইচের আয়োজন কারীদের সাধুবাদ জানাই।

আগস্ট মাস এলে মনে পরে নৌকা বাইচের কথা

প্রতি বছর আগস্ট মাস এলেই আমাদের মানসপটে ভেসে উঠে নৌকা বাইচ দেখার আনন্দদায়ক স্মৃতি। এলাকার কোথায় বাইচ হচ্ছে লোকমুখে জানাজানি হয়ে যেত, প্রতিটি বাড়ি হতে ছেলে মেয়েসহ বুড়া বুড়িরাও বাইচ খেলা দেখতে যেত।

যেখানে বাইচ হত নৌকার জট লেগে যেত, ঠাঁসা ঠাঁসি নৌকায় দূর্ঘটনাও ঘটত। বাইচ দেখতে এসে চিনা বাদাম ও আখ খাওয়ার ধুম পরে যেত, তখনকার আখ খুবই সুস্বাদু ও মিস্টি ছিল।

এখন প্রতি বছর আগস্ট আসে ঠিকই কিন্তু খাল বিল নদী নালায় পানি নেই, জৌলুসও নেই। তারপরও আমাদের এলাকার কাছাকাছি মত্তগ্রাম, সেলামতি, রাড়িখাল ও সিরাজদিখানের কতিপয় ব্যক্তি ও সংগঠন এ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রেখেছেন। সর্বশেষ ২০১৯ সালে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ওয়াহিদুর রহমান জিঠুর উদ্যোগে গাদিঘাটে জমজমাট নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নৌকা বাইচের পুরস্কার

আগে আমাদের এলাকায় বিভিন্নস্থানে নৌকা বাইচের প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হত। অপেক্ষাকৃত বড় আয়োজনকারীরা বিজয়ীদের পুরস্কার হিসেবে সাধারনত শিল্ড ও কাপ দিতেন, ছোট আয়োজকরা বিজয়ীদের পিতলের কলস দিতেন। অংশগ্রহনকারীদের হাতে শান্তনা পুরস্কার হিসেবে এলুমিনিয়ামের কলস,পানির জগ ইত্যাদি দেয়া হত। এতদাঞ্চলে কোলাপাড়ার নৌকা বাইচের আয়োজনকারীরা সবচে বেশি পুরস্কার দিতেন। এত পুরস্কার দেয়া হত যে, সবাইকে মাইকে নাম ধরে ডেকে ডেকে বিলি করতে রাত ১১টা পর্যন্ত বেজে যেত।

আপনার মন্তব্য জানান...

error: দুঃখিত!