জটিলতায় পড়ে আটকে আছে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবন

কাজী সব্বির আহমেদ দীপুঃ

চালুর অপেক্ষায় প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের নতুন বহুতল ভবন। নির্মাণ কাজ শেষে এখন আনুষঙ্গিক কাজও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এখন সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হলেই উদ্বোধন করা হবে। প্রায় ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালের এই ভবনটি ইতিমধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। তবে মুন্সিগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ নির্মিত ভবনটি হস্তান্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বুঝে নিতে সংশ্নিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েক দফা চিঠি পাঠালে এখনও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। এমন অবস্থায় নতুন ওই ভবন চালুর অপেক্ষায় আছে জেলার চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত বিশাল জনগোষ্ঠী। জেলার ১৫ লাখ মানুষের চিকিৎসার আস্থা জাগানিয়া হয়ে ওঠা এ ভবনটির মাধ্যমে ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হবে হাসপাতালটি। এতে আরও উন্নত চিকিৎসাসেবা পেতে চায় জেলার বিশাল জনগোষ্ঠী।
জানা গেছে, জেলার চিকিৎসাসেবার প্রাণকেন্দ্র মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নির্মিত ষষ্ঠতলা নতুন ভবনে থাকবে ২৫০ শয্যার সুবিধা। এখানে সিসিইউ, আইসিইউ ও আধুনিক অপারেশন কক্ষ থাকছে। উন্নত চিকিৎসাসেবার সুবিধাসহ বিভিন্ন রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকবেন এই হাসপাতালটিতে। আধুনিক ব্যবস্থাসম্পন্ন নতুন ভবনটি নির্মিত হওয়ায় চিকিৎসাসেবার দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন জেলাবাসী। তবে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম এবং চিকিৎসক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের ধীরগতি হওয়ায় ভবনটি হস্তান্তরও করতে পারছে না জেলা গণপূর্ত অধিদপ্তর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাইকার অর্থায়নে এই বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ করছে মেসার্স নূরানী কনস্ট্রাকশন নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ষষ্ঠ তলা এই ভবন নির্মাণে ৩০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়। ২০১৩ সালের ভবন নির্মাণকাজ শুরুর পর ২০১৮ সালের জুনে তা সম্পন্ন হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হলেও নতুন এই ভবন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও চিকিৎসকের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না।

মুন্সিগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান জানান, ভবনটি নির্মাণ শেষ হওয়ায় তা হস্তান্তর করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিবার চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে। এখন হাসপাতাল চালুর ক্ষেত্রে আনুষঙ্গিক কাজ সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর সম্পন্ন করবে। গণপূর্ত বিভাগ মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবন হস্তান্তর করতে প্রস্তুত।

জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি অবহিত হয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা সংশ্নিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাগাদা দিয়েছেন। এ ছাড়া জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকেও পৃথকভাবে জানানো হয়েছে। এখন সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময় নির্ধারণ করলেই গণপূর্ত বিভাগ জেনারেল হাসপাতালের নতুন এই ভবনটি হস্তান্তর করতে পারে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান জানান, এই ভবনটি উদ্বোধন হলে হাসপাতালটি ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হবে। তবে লোকবল নিয়োগ এবং সরঞ্জাম ক্রয় প্রক্রিয়াধীন থাকায় ভবনটি হস্তান্তর প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: দুঃখিত!