কে এই ইউসুফ? কি কারনে তাকে আটক করলো র‌্যাব?

মুন্সিগঞ্জ, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, বিশেষ প্রতিনিধি, (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের চরাঞ্চলের আলোচিত অবৈধ অস্ত্র ও মাদক ‘চোরাকারবারী’ হিসেবে অভিযুক্ত ইউসুফ হাসান ওরফে ইউসুফ ফকিরকে (৪০) মাদকসহ গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে র‌্যাব-১১।

ইউসুফ হাসান মূলত কাতারপ্রবাসী একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। স্থানীয়ভাবে তিনি আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে পরিচিত। অর্থ-বিত্তের কারনে তিনি এলাকায় বেশ জনপ্রিয়।

গ্রেপ্তারের পর তার সমর্থকরা গাছ, সিমেন্টের খুঁটিসহ নানা কিছু ফেলে এবং পাটখড়ির স্তূপে আগুন ধরিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক জুড়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে।

গতকাল (০৩ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সূত্র জানায়, সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মহেশপুরে গ্রামের অভিযান চালিয়ে অন্তত ৫ মামলার আসামি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রার্থী ইউসুফ হাসানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১১।

তার কাছ থেকে ৪০৫ পিস ইয়াবা, দুই বোতল বিয়ার, মাদক বিক্রির ৬ লাখ ৮ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ইউসুফ হাসান মহেশপুর গ্রামের মৃত লাল মিয়া ফকিরের ছেলে।

র‌্যাব-১১ এর কমান্ডার পুলিশ সুপার মো. এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, চরাঞ্চলের মাদক ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী কয়েকটি মামলার আসামি ইউসুফ ফকিরের মহেশপুরের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

সেসময় তাকে মাদক ও মাদক বিক্রির টাকাসহ আটক করা হয়।

তবে তার সর্মথকরা তাকে ছাড়িয়ে নিতে দীর্ঘ পথ জুড়ে নানা তাণ্ডব চালায়।

প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কে অন্তত ২০টি পয়েন্টে গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে রাখে। আগে কাটা গাছের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেড দেয়। সিমেন্টের খুঁটিসহ নানান কিছু ফেলে রাস্তা বন্ধ করার অপচেষ্টা চালায়। জায়গায় জায়গায় পাটখড়ি ফেলে আগুন জ্বালিয়ে র‌্যাবের পথ রোধ করার চেষ্টা করে।

এমনকি, এসময় এলাকার নারীরা র‌্যাব সদস্যদের ঘেরাও করার চেষ্টা করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় বলেও জানা যায়।

বর্তমানে তার (ইউসুফ ফকির) দেওয়া তথ্য মতে অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান চলছে।

এদিকে খবর পেয়ে রাতেই সদর থানা পুলিশের একাধিক দল মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মহেশপুর ও আশপাশের গ্রামে অবস্থান নেয়।

গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, ইউসুফ হাসানকে গ্রেপ্তার করার পরপরই তার সমর্থকরা একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

র‌্যাব এলাকায় অবস্থান করার সময় পুরুষরা নিরাপদ দূরত্বে থাকলেও নারীদের আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খন্দকার আশফাকুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে রাতেই সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে যায়। মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মহেশপুর ও আশপাশের গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান জানান, ইউসুফ ফকিরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকসহ অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে।

“ইউসুফ ফকিরের গ্রেপ্তারের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি,” উল্লেখ করে তিনি আজ সকাল ১১টায় জানান, “আসামি র‌্যাবের কাছেই আছে।”

তিনি বলেন, “এলাকার পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। র‌্যাবের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: দুঃখিত!
%d bloggers like this: